এবারের ঈদুল আজহায় দেশে কোরবানি হয়েছে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু। গত বছরের তুলনায় যা প্রায় ১২ লাখ ৭২ হাজার কম। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই সংখ্যা গত চার বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কোরবানির পশুর সংখ্যা ২০২১ সালের পর এবারই সবচেয়ে কম হলো।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে কোরবানির জন্য মোট পশু উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখের মতো। এর মধ্যে অবিক্রীত থেকে গেছে প্রায় ৩৩ লাখ ১০ হাজার পশু। এ বছর কোরবানি হওয়া পশুর মধ্যে গরু-মহিষের সংখ্যা ছিল ৪৭ লাখ ৫ হাজার ১০৬টি এবং ছাগল-ভেড়া মিলিয়ে ৪৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮টি। এছাড়া অন্যান্য প্রাণী—যেমন উট, দুম্বা ইত্যাদির সংখ্যা ছিল ৯৬০টি। কোরবানির পশুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় অনেক পশু অবিক্রীত থেকে গেছে বলে জানায় মন্ত্রণালয়। অবিক্রীত পশুগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য রাখা যাবে। বিভাগভিত্তিক কোরবানির চিত্রঃ এবার সবচেয়ে বেশি কোরবানি হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, মোট ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৯৭১টি। এরপর রয়েছে ঢাকা বিভাগ, যেখানে কোরবানি হয়েছে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০টি পশু। অন্যান্য বিভাগগুলোর মধ্যে:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি শুধু অর্থনীতির সঙ্গে নয়, সামাজিক বাস্তবতা, রাজনীতি এবং বাজারের চাহিদা-সরবরাহের সঙ্গেও জড়িত। এবারের ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিছক পরিসংখ্যানগত নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। কোরবানির পশুর উৎপাদন বাড়লেও বিক্রি কম হওয়া, বিপুল পরিমাণ পশু অবিক্রীত থাকা এবং ব্যক্তি পর্যায়ে কোরবানির প্রবণতা হ্রাস পাওয়া—এসবই নির্দেশ করে যে জনগণের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে এবং বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্বের শূন্যতা অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে পশু কেনাবেচার উপর প্রভাব ফেলেছে বলেও বিশেষজ্ঞদের মত। আগামী বছরগুলোতে কোরবানির পশুর বাজারের স্থিতিশীলতা ও পশুপালকদের স্বার্থ রক্ষায় পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট মহলের সময়োপযোগী পদক্ষেপই পারে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুষম ও টেকসই কোরবানির বাজার নিশ্চিত করতে। |
এবার কোরবানির পশু কমেছে ১২ লাখ, অবিক্রীত রয়ে গেছে ৩৩ লাখ
