দেশে আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির অর্থনীতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, এবার দেশে সবচেয়ে নিরাপদ কোরবানির পশু পাওয়া যাবে এবং বিদেশ নির্ভরতা নেই বললেই চলে।
সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত ‘দেশীয় পশুতে কোরবানি: পশু ও চামড়া ব্যবস্থাপনায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা মিজ ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, “এবার কোরবানির অর্থনীতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াবে। প্রান্তিক খামারিরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন বাড়ি বাড়ি গরু-ছাগল পালন করছেন নারী উদ্যোক্তারাও।”
চামড়া শিল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে সরকার বিনামূল্যে লবণ দিচ্ছে, দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে রপ্তানির ব্যবস্থাও করা হবে।”
লাল তীর লাইভস্টক ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক তাবিথ আউয়াল বলেন, “প্রাণিসম্পদের সাপ্লাই চেইনে নজর দিতে হবে। বাংলাদেশ এখন মাংস রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, “চামড়ার দাম ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে মাদ্রাসাগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ছিল সুপরিকল্পিত।”
বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, “প্রান্তিক খামারিদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ঠেকাতে হবে। স্থানীয় ও ক্রস ব্রিড – উভয়ের উন্নয়ন প্রয়োজন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএজেএফ সভাপতি গোলাম ইফতেখার মাহমুদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মান্নান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান, এলডিডিপি পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিনিধি।