ঢাকা, ১৯ মে ২০২৫: দেশে গবাদিপশু ও পোল্ট্রির উপজাত পণ্যকে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্যে রূপান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আজ ঢাকা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার। “গবাদিপশু ও পোল্ট্রির উপজাত পণ্য হতে পোল্ট্রি ও ফিস ফিড উৎপাদনের সম্ভাবনা” শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোঃ আবু সুফিয়ান।
সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) ড. এবিএম খালেদুজ্জামান বলেন, “বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ খাতে দ্রুত অগ্রগতি ঘটছে, যার ফলে বিপুল পরিমাণ উপজাত পণ্য সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে তা পোল্ট্রি ও ফিস ফিড হিসেবে ব্যবহারে বিশাল সম্ভাবনা তৈরি করবে।” মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. একেএম আহসান কবির এবং নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের এজিএম মোহাম্মদ ফসিউল আলম ভূঁইয়া। তাঁরা তাঁদের প্রবন্ধে বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন প্রাণিসম্পদের উপজাত উৎপাদিত হয়, যার ৩০-৪০% প্রক্রিয়াজাত করলে বছরে প্রায় ১০০০ কোটি টাকার ফিড উপাদান উৎপাদন সম্ভব। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. এস এম যোবায়দুল কবির, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোঃ বয়জার রহমান, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামসুন্নাহার আহম্মেদ, এবং পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) কৃষিবিদ মোঃ শাহজামান খানসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রায় ১০০ জন অংশগ্রহণকারী। সেমিনারে জানানো হয়, হাড়, রক্ত, পালক, অন্ত্র, চর্বি ইত্যাদি উপজাত উপাদান থেকে তৈরি Blood Meal, Feather Meal ও Meat and Bone Meal প্রোটিন ও খনিজ সমৃদ্ধ যা পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্যে কার্যকরভাবে ব্যবহারযোগ্য। পাশাপাশি এতে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, মান নিয়ন্ত্রণের অভাব ও খামারিদের মধ্যে সচেতনতার ঘাটতি এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তির উন্নয়ন, মান নির্ধারণ, গবেষণা সম্প্রসারণ, প্রশিক্ষণ এবং উপজেলা পর্যায়ে পাইলট প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলা হয়, ভারত ও চীনে রেন্ডারিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাপক হারে উপজাত পণ্য থেকে ফিড উৎপাদন করা হচ্ছে। ইউরোপেও নিয়ন্ত্রিতভাবে Meat and Bone Meal ব্যবহৃত হচ্ছে। সেমিনারে বক্তারা বলেন, এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলাদেশে টেকসই কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাত গঠনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। |