গরুর দুধের ফ্যাট (%) বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এর মধ্যে সময়ের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। যেমনঃ সকালের দুধে ফ্যাট (%) কম এবং বিকালের দুধে বেশি থাকে। দুধের কোয়ালিটি বা স্বাদ আসলে ফ্যাটের পরিমাণের উপর নির্ভর করে। তবে সকালের দুধের ফ্যাট বাড়ানো যায়। সকালের দুধের ফ্যাট পার্সেন্টেজ (%) বাড়াতে নিচের কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল অনুসরণ করা যেতে পারে:
১. রাতে আঁশযুক্ত খাবার বেশি দিন: গরু যেন রাতে ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত পরিমাণ উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার (যেমন: খড়, সাইলেজ, ঘাস) খায়। এতে রাতের রুমেন ফার্মেন্টেশন ভালো হয়, বেশি অ্যাসিটেট তৈরি হয় এবং সকালের দুধে ফ্যাট বাড়ে। ২. রাতে ঘাস বা সাইলেজের ঘাটতি নয়: অনেকে রাতে কম ঘাস দেয়, যা ঠিক নয়। রাতের খাবার কম হলে ফ্যাট কমে যায়। তাই রাতে ঘাস ও খড় দেওয়া উচিত। ৩. বাইপাস ফ্যাট রাতে খাওয়ান: গাভীর খাবারে রুমেনে হজম না হয় এমন ফ্যাট বা বাইপাস ফ্যাট যোগ করুন। এই ফ্যাট রুমেনে হজম না হয়ে সরাসরি ক্ষুদ্রান্ত্রে শোষিত হয়, যা সকালের দুধের ফ্যাট বৃদ্ধি করে। ৪. রাতে পানি খাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন: অনেক খামারে রাতে পানি দেওয়া হয় না। রাতে গরুর পানি খাওয়া নিশ্চিত করুন, যাতে রুমেন ফাংশন ঠিকমতো হয়। ৫. সকালের দোহনের সময় গাভী যেন শান্ত থাকে: উত্তেজিত, ভীত, ক্লান্ত গরুর দুধে ফ্যাট কম হয়। দোহনের সময় শান্ত পরিবেশ তৈরি করুন, যাতে অক্সিটোসিন নিঃসরণ ঠিকমতো হয়। ৬. দোহনের সময়সীমা ঠিক রাখুন: রাতে ও সকালে সমান ব্যবধান (১২ ঘণ্টা) রাখার চেষ্টা করুন। বেশি ব্যবধান হলে দুধে পানি বেড়ে গিয়ে ফ্যাট পার্সেন্টেজ কমে যেতে পারে। ৭. রাতে অতিরিক্ত দানাদার খাদ্য এড়িয়ে চলুন: রাতে বেশি দানাদার খাবার বা অতিরিক্ত স্টার্চ (যেমন: ভুট্টা, খৈল) কমিয়ে ফাইবার বাড়ালে রুমেনে এসিডোসিস প্রতিরোধ হয়, যা ফ্যাট কমাতে বাধা দেয়। সকালের দুধে ফ্যাট বাড়াতে হলে “রাতে আঁশ বেশি, পানি পর্যাপ্ত, দানাদার নিয়ন্ত্রিত এবং রুটিন ঠিক” রাখতে হবে। এ নিয়মগুলো অনুসরণ করলে খামারিরা শুধু ফ্যাট বাড়াতে পারবেন না, বরং গরুর স্বাস্থ্যের উন্নতিও নিশ্চিত করতে পারবেন।
|