গাভী ডাকে আসলে (গরম হলে) পাল দেয়ার উপযুক্ত সময় কখন?

গাভী গরম হওয়ার (হিটে আসার) কত সময় পর পাল দেয়া হলে conception rate বা গর্ভধারণের হার সর্বোচ্চ হয়, এর উত্তরে বলা হয় – গাভী গরম হওয়ার পর ১২-১৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে। কেন এই সময়ের মধ্যে পাল দিতে হবে এবিষয়ে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো।

গাভীর গরম (এস্ট্রাস) চক্রের সময় ১২-১৮ ঘণ্টা পাল দেওয়া উপযুক্ত কারণ এই সময়ে ডিম্বাণু নিষেকের জন্য সবচেয়ে উপযোগী অবস্থায় থাকে। এর পেছনের কারণগুলো হল:

  • ডিম্বস্ফুরণের সময় (Ovulation): গাভী গরম শুরু হওয়ার পর সাধারণত ২৪-৩২ ঘণ্টার মধ্যে ডিম্বস্ফুরণ ঘটে। গরম শুরু হওয়ার ১২-১৮ ঘণ্টার মধ্যে পাল দিলে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য সঠিক সময়ে উপস্থিত থাকে, কারণ শুক্রাণু গাভীর প্রজননতন্ত্রে ১২-২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে।
  • শুক্রাণুর গতিশীলতা ও প্রস্তুতি: কৃত্রিম প্রজনন বা প্রাকৃতিক পাল দেওয়ার পর শুক্রাণুকে ফ্যালোপিয়ান টিউবে পৌঁছাতে এবং ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হওয়ার জন্য কিছু সময় লাগে। ১২-১৮ ঘণ্টার মধ্যে পাল দেওয়া নিশ্চিত করে যে শুক্রাণু ডিম্বস্ফুরণের সময় সঠিক স্থানে থাকে।
  • এস্ট্রাসের সর্বোচ্চ উর্বরতা: গাভী গরম হওয়ার এই সময়ে গাভীর প্রজননতন্ত্র (জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব) নিষেকের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। গরমের শুরুতে বা শেষে পাল দিলে নিষেকের সম্ভাবনা কমে যায়।

AM-PM নিয়মের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি: এই সময়সীমা AM-PM নিয়মের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। গরমের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর এই সময়ে মধ্যে পাল দেওয়া হলে গর্ভধারণের হার ৬০-৭০% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।

১২-১৮ ঘণ্টার মধ্যে পাল দেওয়া উপযুক্ত কারণ এটি ডিম্বস্ফুরণের সময়ের সাথে মিলে যায় এবং শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনের জন্য সর্বোত্তম পরিবেশ নিশ্চিত করে। সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য গাভীর গরমের লক্ষণ (যেমন, অস্থিরতা, শ্লেষ্মা নিঃসরণ) ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরী।

মোঃ মহির উদ্দীন, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার জয়পুরহাট।