দেশি গরুর উন্নয়নে রোডম্যাপ প্রণয়ন: খামারবাড়িতে দিনব্যাপী সেমিনার অনুষ্ঠিত

 

ঢাকা, ১৩ মে ২০২৫: “Local Cattle Germplasm Improvement: Challenges and Way Forward” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ দিনব্যাপী সেমিনার আজ রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কৃত্রিম প্রজনন বিভাগ আয়োজিত এই সেমিনারে দেশি গরুর জিনগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও খ্যাতনামা এনিমেল ব্রিডিং বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব নিলুফা আক্তার।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন কৃত্রিম প্রজনন দপ্তরের পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ শাহজামান খান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক ড. মোঃ সফিকুর রহমান (শশী)। তিনি প্রবন্ধে দেশি গরুর টেকসই উন্নয়নে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল তুলে ধরেন।

সেমিনারে জানানো হয়, বিগত ৫০ বছরে হলষ্টিন ফ্রিজিয়ান জাতের সিমেন দিয়ে ক্রসব্রিডিং-এর মাধ্যমে দুধ উৎপাদনে ১৫ গুণ উন্নতি ঘটেছে, এবং দেশে মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে ক্রসব্রিড গরুর উৎপাদনশীলতা টেকসই থাকছে না। বিদেশি জাতের গরুর তাপ সহনশীলতার অভাব, রোগপ্রবণতা ও খাদ্য গ্রহণে সমস্যা এসব সমস্যার অন্যতম কারণ।

উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশের জনগণ এমন একটি গরু চায় যার বৈশিষ্ট্য হবে—ছোট আকৃতি, লাল রঙ, তাপ ও রোগ সহনশীল, কম খাদ্যে বেড়ে ওঠা, বছরে একটি বাচ্চা দেয়া, দিনে ৮ লিটার দুধ দেয় এবং কোরবানির সময় ভালো দামে বিক্রি হয়। আরসিসি, মীরকাদিম, ধবলগরু, পাবনা, নর্থ বেঙ্গল গ্রে, হিলব্ল্যাক প্রভৃতি দেশি জাতের গরুতে এসব গুণাবলি আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে রয়েছে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের ২৪৮.৫৬ লাখ গরুর মধ্যে অধিকাংশই সেমি-ইনটেনসিভ বা পারিবারিক খামার ব্যবস্থায় পালন করা হয়। ৫-১০% দেশি গরু পালন হয় পাস্টুর ভিত্তিক ফ্রি গ্রেজিং সিস্টেমে এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হয় উচ্চফলনশীল ক্রসব্রিড গরু।

দেশি গরুর জিনগত বৈচিত্র্যকে একটি “জিন ব্যাংক” হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, ভবিষ্যতে টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত জাতীয় প্রজনন কৌশল, যেখানে দেশি জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে একটি সহনশীল ও উৎপাদনক্ষম গরুর জাত গঠনের পরিকল্পনা থাকতে হবে।

প্রায় ৩০০ অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি খাতের স্টেকহোল্ডার, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও প্রান্তিক খামারিরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারের মাধ্যমে দেশি গরুর টেকসই উন্নয়ন ও সংরক্ষণে একটি সুসমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।