নতুন ডিম পাড়া মুরগির ডিমে রক্ত: কারণ ও সমাধান

d
নতুন ডিম পাড়া মুরগির ক্ষেত্রে অনেক সময় ডিমের খোলের ওপর বা ভিতরে সামান্য রক্তের দাগ দেখা যায়। বিষয়টি অনেক খামারি বা পোল্ট্রি মালিককে উদ্বিগ্ন করে তুললেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক ও সাময়িক সমস্যা। ডিম পাড়ার প্রাথমিক পর্যায়ে মুরগির প্রজনন নালী পুরোপুরি অভ্যস্ত না হওয়ায় বা পুষ্টির কিছু ঘাটতির কারণে এমনটি হয়ে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ, আঘাত বা স্ট্রেসও এর জন্য দায়ী হতে পারে। সমস্যার সঠিক কারণ জানা থাকলে সহজেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

নতুন ডিম পাড়া মুরগির ডিমে রক্ত আসার কারণ

  1. প্রজনন নালীর অভিযোজন
    • প্রথমবার বা শুরুর দিকে ডিম পাড়ার সময় মুরগির প্রজনন নালী পুরোপুরি অভ্যস্ত হয় না।
    • ডিম বের হওয়ার সময় সামান্য চাপ বা আঘাতে রক্তনালী ফেটে যায়, ফলে খোলের ওপর বা ডিমের ভিতরে রক্তের দাগ দেখা যায়।
  2. ডিমের আকার বড় হওয়া
    • প্রথম কয়েকটি ডিম অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বড় হয়।
    • এতে cloaca বা oviduct-এর আস্তরণে ছোট ক্ষত হয়, যেখান থেকে রক্ত আসতে পারে।
  3. পুষ্টির ঘাটতি
    • ভিটামিন A, ভিটামিন K, এবং ভিটামিন C-এর অভাব রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।
    • পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও খনিজ না পেলে খোলস নরম হয়, ফলে আঘাতের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  4. ইনফেকশন বা প্রদাহ
    • oviduct বা cloaca-তে সংক্রমণ (যেমন salpingitis) থাকলে রক্ত আসতে পারে।
    • এ ক্ষেত্রে ডিমের সাথে সাদা বা হলদে স্রাবও দেখা দিতে পারে।
  5. অতিরিক্ত চাপ বা স্ট্রেস
    • ভয়, শব্দ, খাঁচায় ভিড়, অথবা রুস্টারের অতিরিক্ত চাপও প্রজনন নালীতে ক্ষতি করতে পারে।

সমাধান ও করণীয়

  • মুরগিকে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিন, বিশেষ করে ভিটামিন A, K, C, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।
  • পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করুন।
  • খাঁচায় পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন, যাতে অতিরিক্ত ভিড় না হয়।
  • কয়েকদিন পর্যবেক্ষণ করুন—বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা কমে যাবে।
  • যদি রক্তের পরিমাণ বেশি হয়, ডিমে দুর্গন্ধ থাকে, বা মুরগি অসুস্থ দেখায়, তাহলে দ্রুত ভেটেরিনারি ডাক্তার দেখান।

সব মিলিয়ে বলা যায়, নতুন ডিম পাড়া মুরগির ডিমে রক্ত দেখা সাধারণত ভয় পাওয়ার মতো নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি মুরগির প্রজনন নালীর স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ। সঠিক পুষ্টি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত যত্নের মাধ্যমে এই সমস্যা দ্রুত কমে আসে। তবে রক্তের পরিমাণ বেশি হলে বা মুরগির স্বাভাবিক আচরণে পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতন খামারি হলে সামান্য যত্নেই সুস্থ ও মানসম্মত ডিম উৎপাদন সম্ভব।