বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে একটি ডিমের দাম যেখানে ১২ টাকা, সেখানে ডিম থেকে উৎপাদিত ব্রয়লার বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা দরে। এই অস্বাভাবিক মূল্যপতনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বাচ্চা উৎপাদনকারী হ্যাচারি ও খামার মালিকরা।
খামারিদের সংগঠন ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) জানায়, বাজারে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত বাচ্চা উৎপাদনের কারণে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। তার উপর দেশের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আয় কমে যাওয়া ও শ্রমবাজারে সংকট পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের খামারি সাদ্দাম হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এক মাস আগেও তিনি প্রতিটি বাচ্চা ২৭ টাকা দরে কিনে খামারে তুলেছিলেন। কিন্তু এখন সেই বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৩-৫ টাকায়। “উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে,” বলেন তিনি। সরকার নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী, একটি ব্রয়লার বাচ্চা উৎপাদনে খরচ পড়ে প্রায় ৫৭ টাকা। অথচ গত দুই মাস ধরে হ্যাচারিগুলো ১০ টাকারও কম দামে বাচ্চা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক খামারি লোকসান এড়াতে বাচ্চা তোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ব্রয়লার বাচ্চার দাম ছিল গড়ে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, যা মে মাসে নেমে এসেছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। লেয়ার ও কালার জাতের বাচ্চার দামেও বড় ধস দেখা গেছে। এই ধসের প্রভাবে পূর্ণবয়স্ক ব্রয়লার মুরগির বাজারেও বিক্রয়মূল্য উৎপাদন খরচের নিচে নেমে এসেছে। ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি)-এর নেতারা জানান, “বাচ্চার দাম ব্রয়লারের বাজারদরের ওপর নির্ভরশীল। যখন ব্রয়লারের দাম পড়ে, তখন খামারিরা বাচ্চা কেনা বন্ধ করে দেন, ফলে বাচ্চার দামও পড়ে যায়।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট নিরসনে বাজারে ভারসাম্য আনতে হবে, প্রয়োজন সরকারি হস্তক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। না হলে পোলট্রি খাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে উদ্যোক্তারা, যা দেশের আমিষ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। |
ব্রয়লার বাচ্চার দামে ধস, দিশেহারা খামারিরা
