ঢাকা, ১২ মে ২০২৫ (সোমবার): মৎস্য অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সদ্য সৃজিত পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে আজ ঢাকায় মৎস্য ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং একাত্মতা জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২০১৫ সালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিসিএস (মৎস্য) ক্যাডারের জন্য নতুন করে ৩৯৫টি পদ সৃষ্টির একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়। এতে পূর্বের ২৪২টি পদসহ মোট ৬৩৭টি পদের একটি প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম গঠন করা হয়। তবে দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এ প্রস্তাব বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা হতাশ ও বঞ্চিত বোধ করছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “দেশের পুষ্টির চাহিদা পূরণে আমরা যারা মৎস্যবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করি, তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। অথচ বর্তমানে অনেক সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে আমাদের যথেষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকার পরও আবেদন করতে পারি না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।” মানববন্ধনে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানান, দেশের মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মৎস্য অধিদপ্তরকে আধুনিক ও দক্ষ জনবল দিয়ে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এজন্য দ্রুত অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন এবং প্রস্তাবিত নতুন পদের কার্যকর নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে বাধ্য হবেন তারা। এদিকে, বিকেলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ আবদুর রউফ এর সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। আলোচনায় তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা ইতোমধ্যে অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। আপনারা ধৈর্য ধরুন, বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।” উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রামে উল্লেখ করা হয় যে, নতুন পদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থ বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন, এবং এসব পদে নিয়োগ ধাপে ধাপে তিন বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ এখনও কেবল নথির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের প্রতি আবারও আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত এই অর্গানোগ্রাম বাস্তবায়ন করে মৎস্যবিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়। |