রাজশাহীতে কার্বন ক্রেডিট কর্মশালা: স্মার্ট পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে টেকসই জীবিকা ও মিথেন নির্গমন হ্রাসে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

সাম্ভাব্যতা জরিপ: মুনাফাকরণ নির্গমন: কার্বন ক্রেডিটের মাধ্যমে টেকসই জীবিকার জন্য স্মার্ট পশুসম্পদ ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা  ১৮ জুলাই ২০২৫ শুক্রবার রাজশাহীতে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়। পশুসম্পদ খামারিদের জন্য মিথেন নির্গমনকে কার্বন ক্রেডিট বাজারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তরের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের সূচনা করা হয়।

আয়োজক ও সহযোগী: কর্মশালাটি আয়োজন করে ইন্টারলিঙ্ক, রাজশাহী। প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে রিসাইকেলজার ইকোসিস্টেম লিমিটেড এবং সামগ্রিক সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশ লাইভস্টক সোসাইটি (বিএলএস)।

উদ্বোধন ও মূল আলোচনা: অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা ডীন ও বিএলএস-এর সভাপতি, রোটারিয়ান প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার। কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন:

  • প্রফেসর ড. মো. আখতারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি, বিএলএস; শিক্ষক, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগ, রাবি
  • রোটারিয়ান ড. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ, সাধারণ সম্পাদক, বিএলএস; ডেপুটি চীপ ভেটেরিনারি অফিসার, ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগ, রাবি
  • মো. ইফতেখারুল হক, স্বত্বাধিকারী, ইন্টারলিঙ্ক
  • মনোয়ারুল ইসলাম, ম্যানেজিং পার্টনার, রিসাইকেলজার ইকোসিস্টেম লিমিটেড

অংশগ্রহণকারী: প্রশিক্ষণে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের এমএস ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিএলএস-এর সদস্য ও লাইভস্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) বৃন্দ। এলএসপিগণ রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলা – রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর থেকে আগমন করেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ: মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ

কর্মশালার পরপরই শুরু হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক পর্যায়। প্রশিক্ষণার্থীরা উদ্ভাবনী “কবো-টুলসবস্ক” পদ্ধতি ব্যবহার করে আগামী কয়েকদিন রাজশাহী বিভাগজুড়ে মাঠপর্যায়ে রিয়েলটাইম তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই মাঠ পর্যায়ের তথ্যই পশুসম্পদের মিথেন নির্গমন সঠিকভাবে পরিমাপের ভিত্তি তৈরি করবে।

লক্ষ্য ও প্রত্যাশা এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল এই তথ্য ভবিষ্যতে যাচাইযোগ্য কার্বন ক্রেডিট উৎপাদনের পথ সুগম করা। কার্বন বাজারে এই ক্রেডিট বিক্রি করে অংশগ্রহণকারী খামারিগন সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন। একই সাথে এটি জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশের উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে – দেশ উপকৃত হবে টেকসই ও আয়বর্ধক এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে।