তাইওয়ানে শুরু হয়েছে এশিয়ান ক্রপ সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন কনফারেন্স (ACSAC)-এর ১১তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল “নেট-জিরো উৎপাদন, খাদ্য নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের পথে”। ১৯ থেকে ২১ মে, ২০২৫ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে অংশ নেন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৃষি গবেষক, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক এবং খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
সম্মেলনে আলোচিত হয় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, টেকসই ফসল উৎপাদন পদ্ধতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কৌশল। অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব ও নির্গমনমুক্ত (Net-Zero) কৃষি পদ্ধতি বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য জৈব প্রযুক্তি, উন্নত জাতের ফসল, জল সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়া এই অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা এবং গবেষণাভিত্তিক নীতি প্রণয়নের উপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। এছাড়া সেমিনারে বক্তারা জানান, ভারী ধাতু (heavy metal) যেমনঃ সিসা, পারদ, ক্যাডমিয়াম, আর্সেনিক ইত্যাদি পরিবেশে জমে গিয়ে গাছপালা ও মানবদেহের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। যখন এই ধাতুগুলো মাটিতে জমা হয়, তখন তা গাছের শিকড়ের মাধ্যমে শোষিত হয়ে গাছের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে গাছের স্বাভাবিক পুষ্টি গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। গাছের ক্লোরোফিল ক্ষয় হয়ে যায়, ফলে ফটোসিনথেসিস সঠিকভাবে হয় না। এছাড়া, ভারী ধাতুর কারণে গাছের কোষে বিষক্রিয়া সৃষ্টি হয়, যা কোষ ধ্বংস করে গাছকে দুর্বল করে ফেলে। মানব শরীরের ওপর ভারী ধাতুর প্রভাব আরও গুরুতর। এই ধাতুগুলো পানি, খাদ্য বা বায়ুর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে জমা হতে থাকে। এতে স্নায়ুতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয়, স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা হ্রাস পায়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে। কিডনি ও লিভারে ক্ষতি হয়, কারণ এই অঙ্গগুলো শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করার কাজ করে। ভারী ধাতু শরীরে জমে গেলে এসব অঙ্গের কার্যকারিতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেক ভারী ধাতু যেমন আর্সেনিক ও ক্রোমিয়াম ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া সিসা হাড়ের গঠন নষ্ট করে এবং রক্ত তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত করে, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। সাধারণভাবে, ভারী ধাতু পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য একটি নীরব বিপদ। একবার জমে গেলে তা সহজে দূর হয় না, তাই আগেভাগেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সম্মেলনের সমাপনী দিনে একটি যৌথ ঘোষণা গৃহীত হওয়ার করা রয়েছে, যেখানে কৃষি খাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, ভূমির টেকসই ব্যবহার এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই সম্মেলনটি কৃষি বিজ্ঞান ও নীতিমালার ক্ষেত্রে এশিয়া অঞ্চলে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। |