পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে ব্যাপক ভ্যাকসিন আমদানির সিদ্ধান্ত

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে চলতি বছরে বড় পরিসরে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নিবন্ধিত আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে অধিদপ্তর। সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ ও ভ্যাকসিন আমদানি সংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে ভ্যাকসিন আমদানির সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ শাহজামান খান স্বাক্ষরিত ঐ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে পোল্ট্রিতে লো-প্যাথোজেনিক এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিরোধে ৫০ কোটি ডোজ H9N2 ও বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিন, গবাদিপশুর Lumpy Skin Disease (LSD) প্রতিরোধে ২ কোটি ডোজ LSD ভ্যাকসিন, মুখ ও খুরা রোগ (FMD) প্রতিরোধে ২ কোটি ডোজ ট্রাইভ্যালেন্ট (O, A & Asia 1) ভ্যাকসিন এবং কুকুর ও বিড়ালের জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ২০ লাখ ডোজ রেবিস ভ্যাকসিন আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, এসব ভ্যাকসিন আমদানিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ১১ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।

আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছেঃ বিজ্ঞপ্তিতে ভ্যাকসিন আমদানির জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

১. লাইসেন্স বাধ্যতামূলকঃ আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ক্যাটাগরি-২ লাইসেন্সধারী হতে হবে। এছাড়া ভ্যাকসিন অবশ্যই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হতে হবে।

২. নিজস্ব সংরক্ষণ ও পরিবহন সক্ষমতা থাকতে হবেঃ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব Storage Facility, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিতরণ সক্ষমতা থাকতে হবে।

৩. ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতার তথ্য দিতে হবেঃ আবেদনপত্রের সঙ্গে টিকা আমদানির পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতার তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

৪. কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য দাখিল বাধ্যতামূলকঃ H9N2 ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে G1 Lineage থেকে উৎপাদিত ভ্যাকসিনের তথ্য, Country of Origin, Phylogenicity, বাংলাদেশের Circulating Virus-এর সঙ্গে মিল, অন্য কোন দেশে ব্যবহার হচ্ছে কিনা—এসব তথ্য জমা দিতে হবে। পাশাপাশি Free Sale Certificate, Safety, Efficacy, উৎপাদন ও ব্যবহার সংক্রান্ত তথ্যও দিতে হবে।

একইভাবে LSD ও FMD (Trivalent: O, A & Asia 1) ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও ভাইরাসের Phylogenicity, উৎপাদনকারী দেশের তথ্য, বাংলাদেশের ভাইরাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য, Safety ও Efficacy তথ্য জমা দিতে হবে। রেবিস ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ডকুমেন্ট দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৫. ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিলঃ আবেদনপত্রে অসত্য বা অসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা হলে আবেদন সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।

৬. আগের আমদানির তথ্য জমা দিতে হবেঃ যেসব প্রতিষ্ঠান ২০২৫ সালে ভ্যাকসিন আমদানির অনুমোদন পেয়েছিল, তাদেরকে পূর্বের আমদানি ও ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য আবেদনপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।