বিশ্বজুড়ে পালিত হবে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) সচেতনতা সপ্তাহ ২০২৫’

বিশ্বব্যাপী অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বা জীবাণুনাশক প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে আগামী ১৮ থেকে ২৪ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পালিত হবে “World AMR Awareness Week 2025”। এ বছরের প্রতিপাদ্য— “Act Now: Protect Our Present, Secure Our Future” বা “এখনই পদক্ষেপ নিন—বর্তমান রক্ষা করুন, ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন।”

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বর্তমানে বিশ্বজনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চিকিৎসা, কৃষি, পশুসম্পদ ও পরিবেশ—সবখানেই অযথা ও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ক্রমে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। ফলে অনেক রোগের চিকিৎসা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে, যা মানুষের পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ খাতেও গভীর প্রভাব ফেলছে।

এই প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) এবং জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) যৌথভাবে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশেও এই বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে “Regional Workshop on AMR Awareness and    Veterinary Antimicrobial Stewardship Guideline (VAG)” শীর্ষক কর্মশালা। এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, গবেষক ও খাত সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

ওয়ার্কশপে বক্তারা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ওষুধের ডোজ, সময়কাল এবং প্রয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা শুধু প্রাণির স্বাস্থ্যের জন্য নয়—মানুষের জীবন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ।

বক্তারা আরও বলেন, “Act Now: Protect Our Present, Secure Our Future”—এই স্লোগান তখনই বাস্তবায়ন সম্ভব, যখন সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করবে। খামারি, পশুচিকিৎসক, ওষুধ ব্যবসায়ী এবং নীতিনির্ধারক—সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক, হারবাল সাপ্লিমেন্ট, টিকা এবং উন্নত বায়োসিকিউরিটি মডেল ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি, মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে খামারিদের আচরণগত পরিবর্তন আনাও সময়ের দাবি।

বিশ্বব্যাপী এই সচেতনতা সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা সেমিনার, প্রচারণা, ক্যাম্পেইন এবং মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি পরিচালনা করবে। বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নানা আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবিলা এখন শুধু স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ নয়—এটি টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক মানবকল্যাণেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।