মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে তীব্র তাপদাহ মোকাবিলায় খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধি

 

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল, বাঘড়া ও ভাগ্যকূল ইউনিয়নে আজ, ১১ মে ২০২৫, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তীব্র তাপদাহের প্রভাব মোকাবিলায় উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগি, ডেইরি গবাদি পশু এবং কুরবানির জন্য পশু প্রস্তুতকারী খামারিদের জন্য এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এই বৈঠকে খামারিদের তাপদাহের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং তা মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, চলতি গ্রীষ্মে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা খামারিদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে, গবাদি পশু ও পোলট্রি খামারে হিটস্ট্রোকের কারণে প্রাণহানির ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

উঠান বৈঠকে উপস্থিত খামারিদের জন্য বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট লাইভস্টক প্রোডাকশন রিসার্চ সেন্টারের কিছু পরামর্শ প্রদান করা হয়। যেমন:

  • শেডের শীতলীকরণ: শেডের চালে ভেজা চট বা কাপড় বিছিয়ে তা মাঝে মাঝে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এছাড়া, শেডের উপরে রঙিন পলিথিন সামিয়ানা টাঙিয়ে সরাসরি সূর্যের তাপ প্রতিরোধ করতে হবে।
  • পানি সরবরাহ: গবাদি পশু ও পোলট্রিকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে হবে। পোলট্রির শেডে পানির পাত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়ে পানির সাথে উপযুক্ত পরিমানে লবণ, ভিটামিন সি, ইলেক্ট্রোলাইট, গ্লুকোজ বা অ্যামাইনো এসিড মিশিয়ে দিতে হবে।
  • খাদ্য সরবরাহ: গবাদি পশুকে নরম কচি ঘাস সরবরাহ করতে হবে এবং শক্ত আঁশযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। দুধেল গাভীকে কম আঁশ এবং উচ্চ শক্তিসম্পন্ন খাবার সরবরাহ করলে তা হিটস্ট্রেস কমাতে সাহায্য করবে।

এছাড়া, প্রত্যেক ইউনিয়নে কর্মরত এআইটি ও এলএসপিদেরকে খামারিদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শসহ সদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে খামারিদের ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং প্রাণিসম্পদের সুস্থতা বজায় রাখা যাবে।