সফলভাবে আধানিবিড়, নিবিড় ও বায়োফ্লক পদ্ধতির বাগদা/ ভেনামী / গলদা চিংড়ি চাষে ২০টি করনীয়

চিংড়ি হ্যাচারি পরিচালনা, উন্নত পদ্ধতির চিংড়ি ও মাছ চাষে কঠিন বিজ্ঞান নেই ; তবে সফলতার জন্য সঠিক নিয়মাবলি অনুসরণই গুরুত্বপূর্ণ।

  • পুকুরের পাড়ে জিওমেমব্রেন পলিথিন লাইনিং করা। এর ফলে পুকুরে কখনো বাহিরের জীবানুযুক্ত পানি চুইয়ে পকুরে প্রবেশ করতে পারে না এবং পুকুর থেকে পানি বাহিরে যেতে পারবে না।
  • সম্ভব হলে পুকুরের তলদেশে জিওমেমব্রেন পলিথিন লাইনিং করুন এবং পুকুরের কেন্দ্রে বটম ক্লিনিং ব্যাবস্থার জন্য পাইপ স্থাপন করুন।
  • চিংড়ি খামারের মাটিসহ ব্যবহার্য প্রতিটি জিনিসপত্র ব্লিচিং বা ক্লোরিন দ্রবণে জীবানুমুক্ত করা।
  • পুকুরে পানি প্রবেশ করিয়ে পানি ক্লোরিন বা ব্লিচিং প্রয়োগ করে জীবানুমুক্ত করে এ্যায়ারেটর চালিয়ে ক্লোরিন উড়িয়ে দেয়া।
  • খামারে বা পুকুরে পাখির বিচরণ বন্ধের জন্য পুকুরের উপরে পাতলা ছিদ্রযুক্ত জাল স্থাপন করুন।
  • পুকুরে বা খামারে প্রবেশের পুর্বে প্রতিটি কর্মী হাত-পা জীবানু মুক্ত করতে হবে এবং অন্য কোন লোক জীবানুমুক্ত না হয়ে খামারে প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না। যে কোন জিনিস খামারে ব্যবহারের আগে জীবানুমুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে।
  • নিরাপদ ও জীবানুমুক্ত খাদ্য ব্যবহার নিশ্চিত করার সার্বিক ব্যবস্থা করতে হবে।
  • পোনা সুস্থ ও সবল কিনা তা যাচাই করে ক্রয় করতে হবে।
  • এস. পি.এফ বা পিসিআর পরীক্ষিত পোনা নার্সিং করে মজুদ করতে হবে।
  • পানির গুণাগুণ ও কতিপয় জীবাণু পরীক্ষার জন্য খামারে একটা ছোট ল্যাবোরেটরী বা নিকটস্থ এলাকায় একটি ল্যাবোরেটরী থাকতে হবে।
  • নিয়মিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করতে হবে এবং পানির পি এইচ ও এলকালিনিটি সঠিক পর্যায়ে(১২০-১৬০ পিপিএম) রাখতে হবে। এলকালিনিটি বৃদ্ধি বা সঠিক পর্যায়ে রাখার জন্য CaCO3( পাথুরে চুন) CaMg(CO3)2 ( ডলোমাইট), CaO এবং Ca(OH)2. প্রয়োগ করা যেতে পারে।
  • সঠিক মানের খাদ্য সঠিক পরিমানে নিয়মিত প্রয়োগ করতে হবে। বায়োফ্লক পদ্ধতির চাষে কম প্রোটিনযুক্ত খাদ্য প্রয়োগ করা উত্তম।
  • পুকুরে ফিডিং ট্টে থাকলে হবে।
  • নিয়মিত চিংড়ির নমুনা সংগ্রহ করে দৈহিক বৃদ্ধি, বাঁচার হার ও খাদ্য প্রয়োগের পরিমান নির্ধারণ করতে হবে।
  • নিয়মিত খোলস পাল্টাচ্ছে কিনা দেখতে হবে।
  • নিয়মিত এফ. সি. আর. নির্নয় করতে হবে।
  • এ্যামোনিয়া নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে প্রোবায়োটিকস, জিওলাইট বা মোলাসেস প্রয়োগ করতে হবে।
  • নিয়মিত প্যাডেল হুইল, রুট এয়ার ব্লোয়ার ও নানো-বাবল এয়ারেটর চালাতে হবে।
  • তলদেশে অতিরিক্ত বর্জ্য জমা হলে তা কেন্দ্রীয় নিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে অপসারণ করতে হবে।
  • এক বা একাধিক পানির রিজার্ভার থাকতে হবে। রিজার্ভারে পানি জীবানুমুক্ত করে প্রয়োজনে ঐ পানি পুকুর সরবরাহ করতে হবে। জীবানুমুক্ত না করে কখনো পুকুরে পানি দেয়া যাবে না।

এ কাজগুলো করতে পারলে আমি ৯৯ % নিশ্চিত সফলভাবে আধানিবিড় বা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করা যাবে।