Safe Feed কে গ্রাহক কেন্দ্রিক ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান

বাংলাদেশের ফিড শিল্পের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও সম্ভাবনাময় নাম KGS Group Family–এর Safe Feed সম্প্রতি সেলস ও মার্কেটিং নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেছে। কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান, যিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনিম্যাল হাজবেন্ড্রিতে বিএসসি এবং এনিম্যাল সাইন্সে এমএস সম্পন্ন করেছেন, তিনি KGS Group Family–এর General Manager – Head of Sales & Marketing (Safe Feed) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের বাস্তব জ্ঞান এবং কৌশলগত নেতৃত্বগুণের সমন্বয়ে তিনি ফিড ও অ্যাগ্রিবিজনেস সেক্টরে একজন সুপরিচিত নাম।

এই প্রেক্ষাপটে Safe Feed–এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বাজার পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ, সেলস ও মার্কেটিং কৌশল, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এবং শিল্পের সার্বিক দিকনির্দেশনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন তিনি। www.feednewsbd.com –এর সম্পাদক মোঃ আল-আমিন–এর সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতি থেকে শুরু করে আগামী ৩–৫ বছরে Safe Feed–কে কোথায় দেখতে চান, সেই ভিশন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন মোঃ মিজানুর রহমান। ফিড শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তার অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি এই প্রতিবেদনে পাঠকদের জন্য মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করবে আমরা আশা করি। নিচে তার চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলোঃ

মোঃ আল-আমিন: KGS Group Family–তে General Manager – Head of Sales & Marketing (Safe Feed) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতি কেমন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: এই দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক ও অনুপ্রেরণাদায়ক। KGS Group একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বাসযোগ্য নাম, আর Safe Feed একটি সম্ভাবনাময় ব্র্যান্ড।এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারব—এই বিশ্বাস থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।

মোঃ আল-আমিন: Safe Feed–এর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে আপনার প্রধান অনুপ্রেরণা কী ছিল?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: Safe Feed–এর মান, নৈতিক ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাই ছিল আমার প্রধান অনুপ্রেরণা। পাশাপাশি KGS Group–এর কর্পোরেট কালচার ও ভিশন আমার চিন্তাধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মোঃ আল-আমিন: আপনার ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায়কে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: আমি এটিকে আমার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং অধ্যায় হিসেবে দেখছি, যেখানে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব ও কৌশলগত চিন্তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

মোঃ আল-আমিন: Safe Feed–এর সেলস ও মার্কেটিং কার্যক্রমকে নতুন উচ্চতায় নিতে আপনার ভিশন কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: আমার ভিশন হলো Safe Feed–কে একটি গ্রাহক-কেন্দ্রিক, ও শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও লাভজনক একসঙ্গে নিশ্চিত হবে।

মোঃ আল-আমিন: বাজার সম্প্রসারণ ও ব্র্যান্ড শক্তিশালীকরণের ক্ষেত্রে আপনার প্রধান কৌশলগুলো কী হবে?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, শক্তিশালী ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন, প্রোডাক্ট ডিফারেনশিয়েশন এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর মার্কেটিং কার্যক্রম হবে আমার প্রধান কৌশল।

মোঃ আল-আমিন: প্রতিযোগিতামূলক ফিড মার্কেটে Safe Feed–কে আলাদা অবস্থানে নিতে আপনি কীভাবে কাজ করবেন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: পণ্যের গুণগত মান, কনসিসটেন্সি, সার্ভিস এক্সেলেন্স এবং গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলে Safe Feed–কে প্রতিযোগীদের থেকে আলাদা অবস্থানে নেওয়া হবে।

মোঃ আল-আমিন: বর্তমান ফিড ইন্ডাস্ট্রির বাজার পরিস্থিতি ও প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: বর্তমান বাজারে কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা, প্রতিযোগিতা ও খামারিদের লাভজনকতা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক কৌশল ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব।

মোঃ আল-আমিন: ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর ও খামারিদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে আপনার পরিকল্পনা কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: পারস্পরিক বিশ্বাস, নিয়মিত যোগাযোগ, ট্রেনিং সাপোর্ট এবং লাভজনক ব্যবসায়িক মডেলের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মোঃ আল-আমিন: গ্রাহকের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তুলতে সেলস টিমের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: সেলস টিমই হলো ব্র্যান্ডের মুখ। তাদের আচরণ, পেশাদারিত্ব ও কমিটমেন্টের ওপরই গ্রাহকের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক নির্ভর করে।

মোঃ আল-আমিন: একটি বড় সেলস ও মার্কেটিং টিম পরিচালনায় আপনার নেতৃত্ব দর্শন কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: আমি বিশ্বাস করি অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্বে—যেখানে টিমকে ক্ষমতায়ন, স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ ও পারফরম্যান্সভিত্তিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

মোঃ আল-আমিন: টিমের পারফরম্যান্স ও মোটিভেশন বাড়াতে আপনি কী ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করেন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: নিয়মিত ফিডব্যাক, স্বীকৃতি, প্রশিক্ষণ এবং ক্যারিয়ার গ্রোথের সুযোগ তৈরি করাই আমার প্রধান পদ্ধতি।

মোঃ আল-আমিন: ভবিষ্যৎ সেলস লিডার তৈরি করতে আপনার কৌশল কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: ট্রেনিং, মেন্টরশিপ, দায়িত্ব অর্পণ এবং পারফরম্যান্স-ভিত্তিক লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ লিডার তৈরি করা হবে।

মোঃ আল-আমিন: আধুনিক সেলস ও মার্কেটিংয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডেটা-নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত এখন অপরিহার্য। এগুলো বাজার বিশ্লেষণ, গ্রাহক আচরণ বোঝা ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বড় ভূমিকা রাখে।

মোঃ আল-আমিন: Safe Feed–এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: ডিজিটাল মার্কেটিং Safe Feed–এর ব্র্যান্ড ভিজিবিলিটি বাড়াতে, তরুণ খামারি ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মোঃ আল-আমিন: আগামী ৩–৫ বছরে Safe Feed–এর বাজার অবস্থান আপনি কোথায় দেখতে চান?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: আমি Safe Feed–কে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত ফিড ব্র্যান্ডগুলোর একটি হিসেবে দেখতে চাই।

মোঃ আল-আমিন: ফিড ও অ্যাগ্রিবিজনেস সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: ধৈর্য, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, শেখার মানসিকতা এবং নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করাই এই সেক্টরে সফলতার মূল চাবিকাঠি।

মোঃ আল-আমিন: নতুন দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতে গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের উদ্দেশে আপনার বার্তা কী?

কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমান: আমি আপনাদের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে চাই—Safe Feed সবসময় মানসম্মত পণ্য, নির্ভরযোগ্য সেবা ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে কাজ করবে। “Safe Feed আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে – এই বিশ্বাস নিয়েই আমরা  এগিয়ে যেতে চাই।”

সবশেষে বলা যায়, Safe Feed–এর সেলস ও মার্কেটিং নেতৃত্বে কৃষিবিদ মোঃ মিজানুর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণ প্রতিষ্ঠানটির জন্য একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত পদক্ষেপ। তার শিক্ষা, দীর্ঘদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং আধুনিক ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি Safe Feed–এর ভবিষ্যৎ যাত্রাকে আরও সুসংহত করবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। এই সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনাই নয়, বরং দেশের ফিড শিল্পের বর্তমান বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছেন।

গ্রাহক-কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, মানসম্মত পণ্য, শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে Safe Feed–কে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত ফিড ব্র্যান্ডে পরিণত করার যে অঙ্গীকার তিনি ব্যক্ত করেছেন, তা নিঃসন্দেহে খামারি, ডিলার ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের মধ্যে নতুন আস্থা তৈরি করবে। “Safe Feed আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে”—এই বার্তাকে সামনে রেখে নতুন নেতৃত্বে Safe Feed কীভাবে আগামী দিনে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।