কাঁচা দুধ থেকে তৈরি চিজে বার্ড ফ্লুর আশঙ্কা — নতুন গবেষণায় সতর্কতা

কাঁচা দুধ থেকে তৈরি চিজে মারাত্মক বার্ড ফ্লু বা এইচ৫এন১ ভাইরাসের জীবিত উপস্থিতি থাকতে পারে— এমন তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্রমিত গরুর কাঁচা দুধ দিয়ে তৈরি কিছু চিজে ভাইরাস দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থাকতে পারে। এমনকি চিজ তৈরির পর ৬০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণকাল পার হলেও ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দুধের অম্লত্ব (pH) ভাইরাস ধ্বংসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেসব চিজের অম্লত্ব বেশি (pH ৫ বা তার নিচে) যেমন ফেটা চিজ— সেগুলো তুলনামূলকভাবে নিরাপদ, কারণ তাতে ভাইরাসের সংক্রমণক্ষমতা পাওয়া যায়নি। তবে যেসব চিজে অম্লত্ব তুলনামূলক কম (pH ৫.৮ থেকে ৬.৬-এর মধ্যে), সেখানে ভাইরাসের সক্রিয়তা বজায় থাকতে দেখা গেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষিত কিছু চিজের নমুনায় ভাইরাস ১২০ দিন পর্যন্ত টিকে ছিল। এটি পূর্বের ধারণার চেয়েও বেশি সময়, যা কাঁচা দুধের চিজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশ্লেষকরা বলেন, কাঁচা দুধ তরল অবস্থায় শরীরের শ্লেষ্মা ঝিল্লির সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসে, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি চিজের তুলনায় অনেক বেশি। অপরদিকে, চিজে অম্লত্ব বৃদ্ধির কারণে ভাইরাস সক্রিয়তা অনেকাংশে কমে যায়।

খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণা দুগ্ধশিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি শুধু জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়নেই সহায়তা করবে না, বরং ভবিষ্যতে কাঁচা দুধ থেকে তৈরি পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক দিকনির্দেশনা দেবে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, কাঁচা দুধের পরিবর্তে পাস্তুরাইজড দুধ ব্যবহার করে চিজ উৎপাদন করা এবং সংরক্ষণের সময় অম্লত্ব ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।