| কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার বল্লভপুরে আর বি এগ্রো লিমিটেডের ফিড ব্র্যান্ড সেইফ ফিড এর আয়োজনে এবং কবির পোল্ট্রি ফার্ম এন্ড ফিড এজেন্সি এর উদ্যোগে আজ ২৩ জুন ২০২৬ খামার বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য ছিলঃ “সঠিক জ্ঞান + উন্নত ফিড + আধুনিক ব্যবস্থাপনা = সফল খামার”।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেইফ ফিড এর জিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেইফ ফিড এর এজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং) মো. হেলাল উদ্দিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সেইফ ফিডের টেকনিক্যাল ম্যানেজার ডা. মো. আবুল ফজল মেহেদী, ডেপুটি ম্যানেজার মো. কবির হোসেন এবং এ অঞ্চলের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ মো. সরোয়ার আলম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কবির পোল্ট্রি ফার্ম এন্ড ফিড এজেন্সি-এর স্বত্বাধিকারী মো. কবির আহমেদ। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রায় ৫০ জন খামারি অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান বলেন, দেশের পোল্ট্রি, ফিশ ও ক্যাটেল খাত বর্তমানে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে খামারিদের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, “শুধু খামার স্থাপন করলেই হবে না, উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ, উন্নত মানের ফিড ব্যবহার এবং নিয়মিত খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে খামারিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর কৌশল জানতে হবে। সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করার মাধ্যমে খামারকে আরও লাভজনক করা সম্ভব। তিনি খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্প দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে লেয়ার খামার দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তিনি বলেন, একটি সফল লেয়ার খামার পরিচালনার জন্য উন্নত জাতের বাচ্চা নির্বাচন, সুষম খাদ্য সরবরাহ, সময়মতো টিকাদান, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কর্মশালায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার ডা. মো. আবুল ফজল মেহেদী খামার ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বিনিময়, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী খামারিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা খামারিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। |







