| গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) আগামী ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজন করতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন “টেকসই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য পুনরুজ্জীবনশীল কৃষি (Regenerative Agriculture for Sustainable Food Security)” শীর্ষক মহাসম্মেলন। আজ ৩ নভেম্বর ২০২৫ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক কনফারেন্সসহ বিগত এক বছরের অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান।
শালবনঘেরা মনোরম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই সম্মেলনে অংশ নেবেন দেশি-বিদেশি গবেষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও কৃষক প্রতিনিধিরা। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য— মাটির স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীল খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুনর্জীবনমুখী কৃষি চর্চার বিকাশ। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তাকে একই সূত্রে গেঁথে এই আয়োজন বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।” এক বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য: ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র এক বছরে গাকৃবি অর্জন করেছে একের পর এক সাফল্য। ২০২৬ সালের টাইমস হায়ার এডুকেশন (THE) র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে গাকৃবি। পাশাপাশি WURI 2025 ইনোভেশন র্যাঙ্কিংয়ে গাকৃবি দেশের মধ্যে প্রথম এবং বিশ্বে ৭৭তম স্থানে উঠে এসেছে, যা কৃষি শিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সংস্কারে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন— ‘৩৬ জুলাই চত্বর’ ঘোষণা, শহিদ পরিবারকে অনুদান প্রদান এবং রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনের উদ্যোগ শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনে নতুন দিগন্ত: গাকৃবির বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি উদ্ভাবন করেছেন কয়েকটি নতুন ফসল ও প্রজাতি— সুগন্ধিযুক্ত দ্রুত ফলনশীল ধান “জিএইউ ধান-৩”, উচ্চ লবণ সহিষ্ণু গম “জিএইউ গম-১”, এবং জলজ ফসল “শাপলা-১” ও “শাপলা-২”। এসব উদ্ভাবন কৃষকের মুখে হাসি ফোটাবে এবং খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন ভরসা যোগাবে। এছাড়া, বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসি’র HEAT প্রকল্পে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে গাকৃবির ৮টি প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে, যা সাফল্যের হারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও স্মার্ট কৃষি: “স্মার্ট এগ্রিকালচার রোডম্যাপ” বাস্তবায়নের মাধ্যমে গাকৃবি এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব কৃষির পথে। ইতোমধ্যে জাপান, কানাডা, চীন, বতসোয়ানা ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে স্বাক্ষরিত হয়েছে একাধিক সহযোগিতা স্মারক (MoU), যা গবেষণা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। কৃষি প্রযুক্তি ও জনসেবা: গাকৃবি উদ্ভাবিত প্রযুক্তি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। ভেটেরিনারি টিচিং হসপিটাল ও মোবাইল মিল্ক টেস্টিং ল্যাবরেটরির মাধ্যমে গবাদি ও পোষা প্রাণির চিকিৎসা এবং দুধ পরীক্ষার সেবা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জলবায়ু মোকাবেলায় অঙ্গীকার: গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় টেকসই কৃষি প্রযুক্তি, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অনন্য ভূমিকা রাখছে। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, “আমরা এমন এক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যা প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে বাংলাদেশের কৃষিকে বিশ্বমানের টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নেবে।” |







