| সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধিদল চীনের উরুমকি (শিনজিয়াং) অঞ্চলে অনুষ্ঠিত “Bangladesh Seminar on Fruit and Vegetable Cultivation and Processing Technology” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল আধুনিক ফল ও সবজি চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ প্রযুক্তি এবং সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা অর্জন করে তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা।
চীনের কৃষি উন্নয়নের মূল শিক্ষা: চীনের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হলো গ্রামীণ পুনরুজ্জীবন (Rural Revitalization) কর্মসূচি। জমির সুষ্ঠু ব্যবহার পরিকল্পনা, ফসল জোনিং এবং “এক অঞ্চল-এক পণ্য” নীতির মাধ্যমে তারা কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করেছে। কৃষক সমবায়, পারিবারিক আঙিনা ভিত্তিক উৎপাদন (Courtyard Economy) এবং বহুমুখী আয় সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে তারা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। মাশরুম ও পুষ্টি নিরাপত্তা: চীনের কৃষি খাতের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো ভোজ্য ছত্রাক (Edible Fungi/Mushroom) শিল্পায়ন। বর্তমানে ৬০টিরও বেশি প্রজাতির মাশরুম খাদ্য ও ঔষধি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। FAO প্রস্তাবিত “Meat + Vegetable + Fungi” খাদ্য ধারণা চীনা খাদ্যসংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। কম খরচে উৎপাদন, উচ্চ পুষ্টিমান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় মাশরুম বাংলাদেশের পুষ্টি নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক ও সুরক্ষিত কৃষি ব্যবস্থা: চীন জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে গ্রীনহাউস কৃষি, হাইড্রোপনিক্স, অ্যাকোয়াপনিক্স ও ভার্টিক্যাল ফার্মিং। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আইওটি, বিগ ডাটা ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির প্রয়োগ কৃষিকে করেছে আরও দক্ষ ও তথ্যভিত্তিক। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উচ্চমূল্যের ফল ও সবজি উৎপাদনে বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। মাঠ থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ ভ্যালু চেইন: চীনের কৃষি শিল্পে “Field to Dining Table” ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ, কোল্ড চেইন, প্যাকেজিং ও বিপণনের একটি শক্তিশালী ভ্যালু চেইন গড়ে উঠেছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ফলে কৃষিপণ্যের অপচয় কমেছে এবং কৃষি হয়েছে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক। BIRTAN-এর প্রাসঙ্গিকতা ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা: এই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (BIRTAN) ভবিষ্যতে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে—
অন্যান্য ইতিবাচক পর্যবেক্ষণ: চীন সফরের সময় আরও কিছু ভালো চর্চা লক্ষ করা গেছে—হোটেল ও রেস্টুরেন্টে পুষ্টিকর ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যের প্রাপ্যতা, সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। এসব দৃষ্টান্ত সামাজিক শৃঙ্খলা ও জনসচেতনতার মাধ্যমে টেকসই নগর ও কৃষি উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে। চীন সফরের অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে যথাযথ নীতি সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি, সমবায় ভিত্তিক কৃষি এবং শক্তিশালী প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষিকে পুষ্টি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। BIRTAN-এর মতো প্রতিষ্ঠানসমূহ এই রূপান্তরে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে এবং একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ, টেকসই ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর অবদান রাখতে সক্ষম। |







