| দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও লাভজনক করার লক্ষ্যে চেরিশ ফিডের উদ্যোগে এবং নিলয় পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিড, পবা, রাজশাহীর সহযোগিতায় শতাধিক প্রান্তিক মৎস্য খামারিকে নিয়ে “মৎস্য খামারী কর্মশালা-২০২৬” শীর্ষক এক টেকনিক্যাল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১০ জুন ২০২৬ বুধবার রাজশাহীর আশ্রয় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে আর বি এগ্রো লিমিটেড ও কেজিএস গ্রুপ।
কর্মশালায় প্রধান আলোচক ও অতিথিরা আধুনিক মৎস্য চাষ, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যয় কমানো, রোগ প্রতিরোধ এবং উন্নত মানের ফিশ ফিড ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতাধিক খামারি তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন কেজিএস গ্রুপের হেড অব বিজনেস প্রবীর কুমার ধর। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মৎস্য খাত বর্তমানে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। খামারিদের উন্নয়ন ছাড়া এই খাতের টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাই আমরা শুধু উন্নতমানের ফিড সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নই, বরং খামারিদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় কর্মসূচির আয়োজন করছি। খামারিদের সফলতাই আমাদের সফলতা।” ডাঃ কাওছার আহমেদ, ডিজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), চেরিশ ফিড, আর বি এগ্রো লিমিটেড বলেন, “বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে লাভজনক মাছ চাষের জন্য সঠিক ব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন ফিড ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। চেরিশ ফিড সবসময় গবেষণাভিত্তিক এবং গুণগতমানসম্পন্ন ফিড উৎপাদনের মাধ্যমে খামারিদের পাশে রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদনশীলতা ও মুনাফা দুটোই বৃদ্ধি পাবে।” চেরিশ ফিডের সিনিয়র এজিএম (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), নর্থ বেংগল জোন, কৃষিবিদ মোঃ গোলাম রসূল বলেন, “উত্তরাঞ্চলের মৎস্য খামারিরা দেশের মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। খামারিদের চাহিদা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা কাজ করছি। উন্নত ব্যবস্থাপনা, সঠিক খাদ্য প্রয়োগ এবং সময়োপযোগী পরামর্শ অনুসরণ করলে খামারিরা আরও বেশি লাভবান হতে পারবেন।” কেজিএস গ্রুপের এজিএম, অ্যাকোয়া নিউট্রিশন অ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির তার কারিগরি উপস্থাপনায় মাছের বিভিন্ন বৃদ্ধির ধাপে পুষ্টি চাহিদা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং পানির গুণগত মান বজায় রাখার কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মাছের সুষম বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রস্তুতকৃত মানসম্মত ফিড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মোঃ শহীদুল্লাহ্, সিনিয়র ম্যানেজার (ক্যাটল), চেরিশ ফিড; মোঃ হুমায়ূন কবীর রিপন, সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং), রাজশাহী জোন; মোঃ আশরাফুল আলম, অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (ফিশ ফিড), রাজশাহী জোন এবং নিলয় পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডের স্বত্বাধিকারী ও চেরিশ ফিশ ফিড ডিলার মোঃ ওয়াহিদুন্নবী অনু। কর্মশালায় খামারিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞরা এবং আধুনিক মৎস্য চাষে সর্বোচ্চ উৎপাদন ও লাভজনকতা অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। প্রাণবন্ত আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং কারিগরি পরামর্শের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “ব্যবহারে চেরিশ ফিশ ফিড, সাফল্য নিশ্চিত।” এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজকরা খামারিদের উন্নয়ন ও দেশের মৎস্য খাতের টেকসই অগ্রগতিতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। |








