জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতে স্বস্তির প্রত্যাশা

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশের কোটি মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এ খাতগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের মূল্য অস্থিরতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ খাতগুলোর জন্য বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও খামারিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তাদের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের পাশাপাশি দেশের প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং ভোক্তা পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ এ মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও উৎপাদনমুখী করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক সুবিধার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং ভোক্তা পর্যায়ে প্রাণিজ আমিষের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে।

বিশেষ করে দেশের পোল্ট্রি ও অ্যাকুয়া ফিড শিল্প দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের উচ্চমূল্য, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং করের চাপের কারণে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আসছে। খাতসংশ্লিষ্টরা দীর্ঘদিন ধরেই উৎপাদন ব্যয় কমাতে কর ও শুল্ক হ্রাসের দাবি জানিয়ে আসছেন। কারণ ফিড উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ডিম, মুরগি, মাছ, দুধ ও অন্যান্য প্রাণিজ পণ্যের বাজারে।

নতুন বাজেটে কৃষি ও উৎপাদনমুখী খাতের কিছু কাঁচামাল এবং উপকরণের ওপর ভ্যাট ও আমদানি পর্যায়ের কর কমানোর প্রস্তাব এসেছে। এতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন ব্যয় কিছুটা হ্রাস পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ফিড শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণের ব্যয় কমলে মাছ ও পোল্ট্রি খামারিরা সরাসরি উপকৃত হবেন, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়েও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তাদের মতে, দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর ও ভ্যাট নীতিতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এ খাতগুলোতে বিনিয়োগ বাড়লে গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কর ও শুল্ক সুবিধাই নয়, উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজেটে ঘোষিত কর ও শুল্ক সুবিধাগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি খাত আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। এতে একদিকে যেমন খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে দেশের প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ খাতগুলোর অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই বাজেটের ঘোষিত সুবিধাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং খামারি পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা।