| রংপুরের কাউনিয়ার টেপা মধুপুর ইউনিয়নের নিজদর্পা গ্রামের তরুণ কৃষক মামুনুর রশিদ এখন এলাকায় ‘সফল উদ্যোক্তা’ হিসেবে পরিচিত। একসময় শুধুই পৈতৃক জমির ওপর নির্ভরশীল এইচএসসি পাস তরুণ এখন মাসে লাখ টাকা আয় করেন জৈব সার ও কৃষিজ পণ্য থেকে।
২০১০ সালে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়ার পর তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এর পর ২০১১ সালে কৃষি কর্মকর্তার সহায়তায় থাইল্যান্ড থেকে আনা লুমব্রিকাস রুবেলা জাতের কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। প্রথম দিকে নিজের জমিতে ধান চাষে ব্যবহার করেন এ সার। ফলাফল দেখে আশপাশের কৃষকরা মুগ্ধ হয়ে একে ডাকতে শুরু করেন ‘ম্যাজিক সার’ নামে। চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০১৪ সালে তিনি উৎপাদন বাড়ান। এখন তাঁর প্রতিষ্ঠানে মাসে ৫–৬ টন সার উৎপাদিত হয়, যার দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা। শুধু সার বিক্রিই নয়, কেঁচো বিক্রি করেও উল্লেখযোগ্য আয় করছেন তিনি। একটি রিংয়ে রাখা আধা কেজি কেঁচো ৪০ দিনে তিনগুণ হয়ে যায়। বর্তমানে তিনি মাসে প্রায় ১০ কেজি কেঁচো বিক্রি করেন, যেখান থেকে ইতোমধ্যে ৭ লাখ টাকার বেশি আয় হয়েছে। ভার্মি কম্পোস্টের পাশাপাশি ২০১৫ সালে তিনি ট্রাইক্রো কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন, যা একদিকে জৈব সার আবার অন্যদিকে ফসলের রোগ প্রতিরোধেও সহায়ক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এর লিচেট ছত্রাক দমন ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে কার্যকর। মামুনুর মাসে প্রায় ১০ লিটার ট্রাইক্রো লিচেট বিক্রি করেন, প্রতিলিটার ৬০০ টাকায়। নিজ ছেলের নামে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘সাবিদ অ্যাগ্রো’। ২০২৩ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠানের সার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় এবং এতে ফসফরাস, নাইট্রোজেন, সালফারসহ মোট ১৫টি উপাদান মানসম্পন্ন পাওয়া যায়। এতে কৃষকের রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেবল সার উৎপাদন নয়—মাশরুম, আদা, লিচু (চায়না–৩), রোজেলা এবং বিষমুক্ত সবজি চাষেও সমান মনোযোগী তিনি। সম্প্রতি সাভারের মাশরুম গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বড় পরিসরে মাশরুম উৎপাদন শুরু করেছেন। বর্তমানে তাঁর খামারে ৫০০ স্পন প্যাকেজ চলছে। ১৫ বছরের শ্রমে দাঁড়িয়ে গেছে তাঁর পাকা বাড়ি, যার পেছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সন্তানদের পড়াশোনা, পরিবারের সচ্ছলতা—সব মিলিয়ে তিনি এখন স্বপ্নপূরণে ব্যস্ত। কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার বলেন, “মামুনুর রশিদ একজন তরুণ ও অনুপ্রেরণাদায়ী কৃষক। জৈব সার উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি শুধু স্বাবলম্বী হননি, আশপাশের কৃষকদেরও জৈব কৃষির প্রতি আগ্রহী করে তুলেছেন।” |







