নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে মানসম্মত পশুখাদ্যের ওপর গুরুত্বারোপ

রাজশাহী, ৩১ জুলাই: নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ ও মানসম্মত পশুখাদ্য। দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে শুধু উৎপাদন ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে হলে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি গুণগত মান, ট্রেসেবিলিটি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা।

‘নিরাপদ ও মানসম্মত দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনে ভেটেরিনারি প্রিমিক্স ফ্যাক্টরি ও পশুখাদ্য কারখানার ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব বিষয় উঠে আসে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাজশাহীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজাহান খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. আনন্দ কুমার অধিকারী। এছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।

কর্মশালায় আলোচকরা বলেন, নিরাপদ দুধ, ডিম ও মাংস উৎপাদনের ভিত্তি হলো নিরাপদ ও মানসম্মত পশুখাদ্য। তাই ‘Safe Feed is the Foundation of Safe Food’—এই ধারণাকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

আলোচনায় আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদজাত পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করেছে। মালদ্বীপে মাংস রপ্তানির পাশাপাশি Bull Stick (Beef Pizzle), Duck Feather এবং মহিষের শিং থেকে তৈরি বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত (Value-added) পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব অর্জন দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।

বক্তারা বলেন, রপ্তানিমুখী প্রাণিসম্পদ শিল্প গড়ে তুলতে GMP, HACCP, ISO, Residue Monitoring, AMR Control, Biosecurity, Cold Chain, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন Slaughter ও Processing ব্যবস্থা এবং Digital Traceability নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক বাজার হবে প্রমাণভিত্তিক (Evidence-based) ও ট্রেসেবিলিটিনির্ভর। ফলে প্রাণীর উৎপাদন, খাদ্য, চিকিৎসা এবং উৎপাদিত পণ্যের নিরাপত্তা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাতের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা হওয়া উচিত—উৎপাদন → স্বয়ংসম্পূর্ণতা → খাদ্য নিরাপত্তা → মূল্য সংযোজন → রপ্তানি সক্ষমতা। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, গবেষণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফিড ও ভেটেরিনারি প্রিমিক্স শিল্প, খামারি, প্রসেসর এবং রপ্তানিকারকদের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, নিরাপদ পশুখাদ্য উৎপাদন, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ খাত দেশের খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হবে।