| কুমিল্লার লাকসামে একটি এতিমখানার গরুর খামারে তিন মাসের ব্যবধানে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনায় ১২টি গরু লুট হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ডাকাতরা আরও ৫টি দুধের গরু তুলে নিয়ে যায়। দুই দফায় মোট প্রায় ২৫ লাখ টাকার গরু লুট হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আজগরা ইউনিয়নের বড়বাম আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানায়। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কেয়ারটেকারসহ আটজন আহত হয়েছেন।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে দুইটি পিকআপ গাড়িতে করে একদল ডাকাত মাদরাসা প্রাঙ্গণে ঢোকে। তারা অস্ত্রের মুখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং খামারের কেয়ারটেকার উৎসব হোসাইনকে বেঁধে ফেলে। এরপর একে একে ৫টি গরু গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এলে ডাকাতরা দ্রুত পালিয়ে যায়। মামলার বাদী শিক্ষক ইমরান হোসাইন বলেন, “ডাকাতরা অস্ত্র দেখিয়ে সবাইকে জিম্মি করেছিল। তারা শুধু গরু নয়, আমাদের ভয়ভীতিও দিয়ে গেছে। তিন মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ঘটনা।” মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা শরীফুল আলম খন্দকার জানান, “এই গরু খামারের আয়ের ওপর নির্ভর করেই এতিমখানা পরিচালিত হয়। এখন বড় গরুগুলো লুট হয়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।” বর্তমানে খামারে মাত্র ১১টি গরু অবশিষ্ট রয়েছে। খামারের এক পাশে পড়ে আছে ডাকাতদের আনা তুষের বস্তা, যা দিয়ে গরুগুলো গাড়িতে তোলা হয়েছিল। লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, “গরু উদ্ধার ও ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ইতোমধ্যে মাদরাসা শিক্ষক ইমরান হোসাইন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।” এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুট হওয়া গরু উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। |







