ভারতের বদলে ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশের ভুট্টা আমদানি

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ফিড (খাদ্য) শিল্পের চাহিদা মেটাতে ভুট্টা আমদানির উৎসে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের ওপর নির্ভরতা কমে গিয়ে এখন ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে উঠে এসেছে—সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (USDA) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (MY26) প্রথম ১০ মাসে বাংলাদেশ প্রায় ১৫ লাখ টন ভুট্টা আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৭৮ শতাংশ এসেছে ব্রাজিল থেকে। বাকি ২২ শতাংশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত প্রত্যেকে ১১ শতাংশ করে সরবরাহ করেছে।

বিশ্ববাজারে ভুট্টার দাম কম থাকায় ব্যবসায়ী ও ফিড উৎপাদনকারীরা বেশি পরিমাণে আমদানি ও মজুত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে, যার ঘাটতি পূরণে প্রায় ১৫ লাখ টন আমদানি করতে হয়।

USDA বলছে, পোল্ট্রি, ডেইরি ও মৎস্য খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে ভুট্টার চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, কারণ এটি প্রাণিখাদ্যের প্রধান উপাদান।

একসময় কম দাম, সহজ পরিবহন ও স্বল্প সময়ের কারণে ভারত ছিল বাংলাদেশের প্রধান ভুট্টা সরবরাহকারী দেশ। তবে ২০২৪ সাল থেকে ভারতে জৈব জ্বালানি উৎপাদনে ভুট্টার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানিযোগ্য উদ্বৃত্ত কমে যায়। ফলে ব্রাজিল এখন বাংলাদেশের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

প্রতিবেদনটি আরও জানায়, ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো MY26-এ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভুট্টা আমদানি শুরু করেছে বাংলাদেশ। তিনটি স্থানীয় ফিড কোম্পানি এ আমদানি শুরু করে। মূলত দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর এই পরিবর্তন এসেছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ১৯ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, যার শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন, তুলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য আমদানি বাড়াতে হবে। এ চুক্তির মোট সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার। MY26-এ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে মোট ভুট্টা আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন।

USDA পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের ভুট্টা আমদানি বেড়ে ১৮ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭.২ শতাংশ বেশি। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে (MY27) আমদানি কিছুটা কমে ১৭ লাখ টনে নামতে পারে, কারণ দেশীয় উৎপাদন ও মজুত বাড়বে। আগামী মৌসুমে দেশে প্রায় ৫৯ লাখ টন ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ১.৭ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় ফিড শিল্পে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা এখন ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ প্রায় তিনগুণ হওয়ায় ভুট্টা চাষ দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 

ডেইলি স্টার