| ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির রেণু (নাপলি) আমদানির অনুমতিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চিংড়িশিল্পে তীব্র উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দেশীয় হ্যাচারিশিল্প ধ্বংসের পরিকল্পিত চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (শেব)। তবে হ্যাচারি মালিকদের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত ওই আমদানি অনুমতি বাতিল করেছে মৎস্য অধিদপ্তর।
বুধবার ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ কক্সবাজারে শেব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, দেশে ভেনামি চিংড়ির পিএল (পোস্ট লার্ভা) উৎপাদনে মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমোদিত ছয়টি হ্যাচারি নিয়মিতভাবে মানসম্মত পিএল উৎপাদন করছে। এরপরও আইন ও নীতিমালা উপেক্ষা করে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারিশিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩ ডিসেম্বর মৎস্য অধিদপ্তর সাতক্ষীরার দেবহাটার পুরুলিয়া বাজারের তৌফিক এন্টারপ্রাইজের অনুকূলে ভারত থেকে ৪২ কোটি ভেনামি চিংড়ির নাপলি আমদানির অনুমতি দেয়। পরে ২৩ ডিসেম্বর ওই অনুমতির ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত আমদানি অনুমোদন দেয়। অনুমতি অনুযায়ী, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিধা ফিশ ট্রেডার্স’ থেকে এই নাপলি আমদানির কথা ছিল। শেব নেতারা বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু আইনবহির্ভূত নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে দেশীয় চিংড়ি হ্যাচারিশিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। তারা আরও দাবি করেন, সম্প্রতি ভেনামির পাশাপাশি ব্ল্যাক টাইগার (বাগদা) ও গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে নাপলি ও পিএল আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। সংগঠনের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ভেনামি চিংড়ির ৪২ কোটি নাপলি আমদানির অনুমতি বাতিল, নীতিমালাবহির্ভূত সব অনুমোদন প্রত্যাহার এবং এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেবের সভাপতি লুত্ফর রহমান কাজল। এ সময় সংগঠনের মহাসচিবসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ বলেন, “গত ৩ ডিসেম্বর যখন ভেনামি চিংড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তখন তা আমদানিনিষিদ্ধ ছিল না। তবে গত ৭ জানুয়ারি ভেনামি চিংড়ি আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর আজ (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) পূর্বে দেওয়া আমদানি অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। ফলে এখন আর কেউ ভেনামি চিংড়ি আমদানি করতে পারবে না।” বিশ্লেষকদের মতে, চিংড়িশিল্প দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিমুখী খাত। এ খাতে যেকোনো নীতিগত অসামঞ্জস্য বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্ত দেশীয় বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং দীর্ঘমেয়াদি শিল্প টেকসইতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। |







