ল্যাবএইডের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি করল ফোয়াব, সদস্য পরিবার পাবে ৩০% বিশেষ মূল্যছাড়

দেশের মৎস্য, চিংড়ি ও মৎস্য পোনা উৎপাদনকারী খামার মালিকদের প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠন ফিস ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফোয়াব) এবং শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ল্যাবএইড-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি (হেলথ সার্ভিস অ্যাগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ফোয়াবের সদস্যরা এবং তাদের স্বামী/স্ত্রী, সন্তান, বাবা ও মা ল্যাবএইডের বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবায় ৩০ শতাংশ বিশেষ মূল্যছাড় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

০৯ জুলাই রাজধানীতে আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ল্যাবএইড ক্যান্সার স্পেশাল হসপিটাল-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অর্থনীতিবিদ সাকিফ শামীম। ফোয়াবের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সভাপতি মোল্লা সামছুর রহমান শাহীন। অনুষ্ঠানে ল্যাবএইডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রানা রুবায়েত, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক হান্নান ও আলমগীর হোসেন। ফোয়াবের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার হাবিবুর রহমান, ড. বায়েজিদ মোড়ল, লায়ন জাকির হোসেন, সাবিনা ইয়াসমিন, শেখ শাকিল আহমেদ, সাফায়েত হোসেন শাওন, এম আলী আকবর টুটুল ও এমডি আবুল হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সুস্বাস্থ্য। দেশের মৎস্য খাতের উদ্যোক্তারা খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। তাদের জন্য উন্নত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সময়োপযোগী উদ্যোগ। এই চুক্তির ফলে সদস্যরা যেমন আর্থিকভাবে উপকৃত হবেন, তেমনি তাদের পরিবারের সদস্যরাও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ সরকারের মৎস্যপদকপ্রাপ্ত সংগঠন ফোয়াব দীর্ঘদিন ধরে মাছচাষিদের অধিকার সংরক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার, নিরাপদ মাছ উৎপাদন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই মৎস্য চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংগঠনটি মাছচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে খাতের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া তুলে ধরতেও সক্রিয় রয়েছে।

ফোয়াব বর্তমানে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআই (FBCCI), বিজনেস প্রোমোশন কাউন্সিল (BPC) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ে ই-ট্রেসিবিলিটি পাইলটিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মৎস্য খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই স্বাস্থ্যসেবা চুক্তি ফোয়াবের সদস্য কল্যাণমূলক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, বীমা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, বাজার সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মতো উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে ফোয়াব দেশের অন্যতম আধুনিক ও শক্তিশালী কৃষিভিত্তিক ব্যবসায়ী সংগঠনে পরিণত হবে। অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়, দেশের মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের কল্যাণ এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ফোয়াবের এ ধরনের উদ্যোগ আগামী দিনে আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে।