| ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৩তম ইন্টারন্যাশনাল প্রোডাকশন, প্রসেসিং অ্যান্ড মিলিং টেকনোলজি এক্সিবিশন ২০২৫–এ এ বছর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে অ্যাকুয়া ফিড শিল্পে প্রযুক্তির ভূমিকা। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ফিড উৎপাদন পদ্ধতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। শুধুমাত্র ভালো ফরমুলেশন বা কাঁচামাল দিয়ে আর মানসম্মত ফিশ ফিড প্রস্তুত করা সম্ভব নয়; বরং উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত আধুনিক মেশিনারি ও প্রযুক্তিই এখন মান নির্ধারণের প্রধান উপাদান। বাংলাদেশের মৎস্যখাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং প্রতিযোগিতাও বাড়ছে। এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে আমি পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির জানাচ্ছি যে, টেকসই পুষ্টিগুণ, কার্যকারিতা, latest technology এবং ব্যয়সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ছাড়া বাজারে টিকে থাকা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠবে।
১০০% মান নিশ্চিত করতে হলে ফিড ফরমুলেশনের পাশাপাশি মিলিং সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ এবং ব্যবহৃত মেশিনের গুণগত মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচামাল মোট ফিড কোয়ালিটির ৪০% নির্ধারণ করে, কিন্তু বাকি ৬০% সম্পূর্ণ নির্ভর করে মেশিনারির উপর। কন্ডিশনিং প্রক্রিয়া ফিডের টেক্সচার, স্থায়িত্ব ও পুষ্টিগুণ ধরে রাখে; হ্যামারিং বা কাঁচামালের ফাইননেস নিশ্চিত করে সমান কণার সাইজ; পিলেট ডাই ফিডের ঘনত্ব, শক্তি ও আকার ঠিক করে; আর একইভাবে কুলিং ও ড্রাইং সিস্টেম ফিডকে ছত্রাকমুক্ত, শুষ্ক এবং স্টোরেজ উপযোগী করে। এর যেকোনো অংশে ত্রুটি হলে পুরো ব্যাচের মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপে প্রযুক্তির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, আধুনিক ফিড মিলিং প্রযুক্তি শুধু মান উন্নত করে না, বরং অপারেশন খরচ কমায়, শক্তি সাশ্রয় করে এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন প্রক্রিয়াকে স্থিতিশীল করে। বিশেষ করে এনার্জি-এফিসিয়েন্ট কন্ডিশনার, হাই-প্রিসিশন ডাই, উন্নত হ্যামার মিল এবং স্মার্ট কুলিং সিস্টেম এখন বিশ্বমানের ফিড উৎপাদনের অপরিহার্য অংশ। তারা উল্লেখ করেন—সঠিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের পিলেট তৈরি করা সম্ভব নয় এবং এটি বাজার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত ডায়াগ্রামটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে যে ফিড কোয়ালিটির মূল নিয়ন্ত্রণ মেশিনের হাতেই বেশি। অনেক সময় উদ্যোক্তারা ভালো কাঁচামাল ও রেসিপি থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত কোয়ালিটি পান না, যার আসল কারণ হলো অপর্যাপ্ত প্রযুক্তি বা সঠিক মিলিং সিস্টেমের অভাব। এই তথ্যটি মিল মালিক, উদ্যোক্তা এবং টেকনিশিয়ানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে। পুষ্টিবিদ সাইফি নাসিরের মতে, ভবিষ্যতের অ্যাকুয়া ফিড হবে প্রযুক্তিনির্ভর এবং সাস্টেইনেবল। তাই এখনই প্রযুক্তি আধুনিকায়নের দিকে নজর দেওয়া শিল্পের জন্য জরুরি। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী বাংলাদেশের অ্যাকুয়া ফিড শিল্পকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে। ক্রমবর্ধমান বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে উন্নত যন্ত্রপাতি, নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ছাড়া মানসম্মত ফিড উৎপাদন সম্ভব নয় এই সত্য আরও একবার উঠে এসেছে। দেশের ফিড শিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে এ ধরনের প্রদর্শনী ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। |








