উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়–আহকাবের যৌথ উদ্যোগ

বাকৃবি সংবাদদাতাঃ উদ্যোক্তাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজিত হয়েছে ‘পেশা হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া’ শীর্ষক সেমিনার। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে অ্যানিম্যাল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আহকাব) উদ্যোগে এটি আয়োজিত হয়। এবছর ৬ষ্ঠ বারের মতো ‘আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো-২০২৬’ আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

সেমিনারে ৬ষ্ঠ আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো-২০২৬ এর আইটি ও মিডিয়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও আহকাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ রাশেদুল জাকিরের সভাপতিত্বে এবং আহকাবের কোষাধ্যক্ষ ও ৬ষ্ঠ আহকাব আন্তর্জাতিক এক্সপো-২০২৬ এর আইটি ও মিডিয়া উপ-কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. মোজাম্মেল হক খানের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও সিন্ডিকেট সদস্য ড. মো. বাহানুর রহমান, পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, ফিশারিজ অনুষদের ডিন ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দিন এবং ময়মনসিংহ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওহেদুল আলম। এসময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু ব্যবসা করা নয় বরং সমস্যা শনাক্ত করে তা সুযোগে রূপান্তর করা।’ বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মূলত চাকরির প্রস্তুতি তৈরি করে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সর্বস্তরে মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি।’

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আহকাবের সভাপতি সায়েম উল হক বলেন, ‘উদ্যোক্তা হওয়া মানে কেবল ব্যবসা করা নয়; বরং নতুন কিছু সৃষ্টি করা, সম্ভাবনাময় সুযোগ খুঁজে বের করা এবং ঝুঁকি নিয়ে একটি উদ্যোগকে সংগঠিতভাবে ধীরে ধীরে বিকশিত করা। তিনি বলেন, সবাই ব্যবসা করতে পারে, কিন্তু উদ্যোক্তার মূল বৈশিষ্ট্য হলো সমস্যাকে সুযোগে রূপান্তর করা।’ তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো মূলত চাকরি খোঁজার মানসিকতা তৈরি করে, অথচ চাকরির বাজার অত্যন্ত সীমিত। এই বাস্তবতায় তরুণদের চাকরিপ্রত্যাশী হওয়ার পরিবর্তে সমস্যা সমাধানভিত্তিক চিন্তা ও উদ্যোক্তামুখী মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরির জন্য শিক্ষা খাতসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ে মাইন্ডসেট পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আমরা এমন একটি সুযোগ তৈরি করছি, যেখানে তারা বাস্তব প্রেক্ষাপটে শিল্প ও খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হেলথ কোম্পানিগুলো কেবল ওষুধ উৎপাদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তারা নিউট্রিশনাল পণ্য, প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ভ্যাকসিন উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও কাজ করছে। এসব খাতে দেশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, এখন সময় এসেছে হেলথ ও প্রোডাকশন সেক্টরকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার। বাংলাদেশে এমন প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে উৎপাদনের সঙ্গে স্বাস্থ্যখাত যুক্ত থাকবে এবং যা আন্তর্জাতিক বাজারেও টিকে থাকতে পারবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত খামারিদের জন্য কম খরচে কার্যকর ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা। এতে খামারিদের আয় বাড়বে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে সমাজ উপকৃত হবে।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানসম্পন্ন ভ্যাকসিন, ওষুধ ও হেলথ-সংশ্লিষ্ট পণ্য দেশে উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা হোক। মানব ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের পাশাপাশি ভেটেরিনারি ও হেলথ প্রোডাকশন খাতেও আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে, নতুন প্রজন্ম এগিয়ে আসবে । এই উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য টেকসই ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।