ক্ষুদ্র কৃষকের ঋণ মওকুফে ১৫৬৭.৯৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার ৬ এপ্রিল ২০২৬ সোমবার সংসদে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো: মোশাররফ হোসেনের (বগুড়া-৪) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাজেটে ইতোমধ্যে এক হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার ফলে সারাদেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার পাঁচ শ’ জন কৃষক উপকৃত হবেন বলে তিনি জানান।

অর্থমন্ত্রী কৃষকদের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতি ও কর্মসূচির আওতায় সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গম ও ভুট্টা উৎপাদন বাড়াতে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক এক হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এ স্কিমটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় কৃষকরা চার শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন। এছাড়া ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা ও মসলা জাতীয় আমদানি বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দিতে চার শতাংশ হারে স্বল্পসুদে ঋণ দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোকে সুদ ভর্তুকি প্রদান করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।