বাংলাদেশে গলদা চিংড়ি রিসাইক্লিং পদ্ধতির হ্যাচারির ইতিহাস, এর সুবিধা ও কিছু কথা

এফ. এ. ও এবং বি. ও. বি. পি এর সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার, পটিয়ায় সর্বপ্রথম ১৯৯১ সালে রিসাইক্লিং পদ্ধতির গলদা চিংড়ি হ্যাচারি স্থাপিত হয়েছিল। এ হ্যাচারির কর্মী ছিলেন মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত মেরীন বায়োলজিস্ট পরম স্নেহভাজন হিরন্ময় ভট্টাচার্য ও স্নেহের রফিকুল ইসলাম ( অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী)। জনাব কাশেম ভাই , BOBP এর চাকুরীজীবি হিসেবে এ হ্যাচারির পরিচালনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কনসালটেন্ট ছিলেন মিঃ এনজেল। কাজ শেখার জন্য এ হ্যাচারিতে কিছুদিন কাজ করেছি। এ হ্যাচারিটি অতীব সফলভাবে পরিচালিত ও প্রশংসনীয় পরিমান পোনা উৎপাদন হয়েছিল।

পটিয়ার হ্যাচারিটির সফলতার ফলে ঝলক, ময়মনসিংহ একটি গলদা হ্যাচারি নির্মাণ হয়। তাছাড়া, তৎকালে বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, কুমিল্লায় আমার চাকুরিকালে জাঙ্গালিয়া মৎস্য খামার,কুমিল্লার ২টি সাধারণ চৌবাচ্চা সংস্কার করে গলদা চিংড়ির রিসাইক্লিং পদ্ধতির হ্যাচারি করে দিয়েছিলাম এবং জনাব নারায়ণ চন্দ্র নম এর মাতৃ হ্যাচারি, বুড়িচং, কুমিল্লায় ১ টি রিসাইক্লিন পদ্ধতির হ্যাচারি করে দিয়েছিলাম। আমার কুমিল্লা চাকুরিকালে জাঙ্গালিয়ার ২ টেংকে কয়েক বছর যাবৎ ৫/৬ লাখ পি. এল হত। এর পরিচালনায় ছিলেন আমার ছাত্র ক্ষেত্র সহকারী তপন সাহা। একই সময়ে ওয়াকার এগ্রো হ্যাচারি, ফরিদপুর ১ টি উন্নতমানের রিসাইক্লিং পদ্ধতির হ্যাচারি করে দিয়েছিলাম। ফরিদপুরের হ্যাচারিটি জনাব তসলিম মাহমুদ ( কম্বোডিয়ায় কর্মরত) পরিচালনা করতেন। তৎকালে উক্ত ৩ টি হ্যাচারিতে উৎপাদিত গলদার পোনা ক্রেতার অভাবে বিক্রি হত না বিধায় হ্যাচারিগুলো তখন বন্ধ করে ফেলা হয়। তৎকালে জনাব আতিকুল ইসলমকে ঝিলঞ্জা, কক্সবাজারের একটি গরুর খামার পরিবর্তন করে একটি গলদা হ্য্যাচারি করে দিয়েছিলাম। প্রয়াত হিরন্ময় ভট্টাচার্য এ হ্যাচারি পরিচালনা করে লক্ষ লক্ষ পোনা উৎপাদন করতেন। কিন্তু তৎকালে ক্রেতার অভাবে হ্যাচারির পোনা বিক্রি করা সম্ভব না হওয়ায় এ হ্যাচারিটিও বন্ধ করে ফেলা হয়। এ হ্যাচারিগুলোর ফলাফলের প্রেক্ষিতে তৎকালীন উপপরিচালক মরহুম এস আই খান আমাকে জাতীয় পুরুষ্কার প্রদানের জন্য মনোনয়ন প্রদান করেছিলেন।

এখন হ্যাচারির পোনার ক্রেতা সৃষ্টি হয়েছে ; কিন্তু পর্যাপ্ত পোনা উৎপাদন হচ্ছে না, অন্য দেশ থেকে চোরাই পথে পোনা আসছে।

জনাব ওয়াহেদ আলী প্রমানিক, তৎকালীন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কতৃক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্র, চাদপুরেও একটি ছোট আকারের রিসাইক্লিং পদ্ধতির হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়েছিল। তাছাড়া, দেশের অভ্যন্তরে ব্রেক কতৃক কতিপয় হ্যাচারি নির্মিত হয়। চিংড়ি হ্যাচারির কর্মী হিসেবে এগুলো আমার দেখা ও জানা বিষয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এ হ্যাচারিগুলো পটিয়ার হ্যাচারির রিসাইক্লিং পদ্ধতি অনুসরন করেনি। এ হ্যাচারিগুলোর অধিকাংশই এখন বন্ধ। এরপর মৎস্য অধিদপ্তর কতৃক দেশের অভ্যন্তরে অনেকগুলো হ্যাচারি স্থাপন করা হলেও হ্যাচারিগুলোতে পরিকল্পনা ও নির্মাণগত বহু সমস্যা রয়েছে। অজ্ঞাত কারনে হ্যাচারিগুলোতে রিসাইক্লিং পদ্ধতি সংযোজন করা হয়নি। এ হ্যাচারিগুলোর সংস্কার ও নির্মাণগত বিবর্তন না করলে কখনো ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে না।

রিসাইক্লিং পদ্ধতি অবলম্বন না করে “ব্রাইন ওয়াটার” ( Brine water from salt bed) ব্যবহার এবং পানি পরিবর্তন পদ্ধতিতে দেশের অভ্যন্তরে গলদার হ্যাচারি পরিচালনা ব্যায়বহুল ও ঝুকিপূর্ণ। রিসাইক্লিং পদ্ধতিতে গলদা হ্যাচারি পরিচালনা সহজ; তবে বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। দেশে-বিদেশে রিসাইক্লিং পদ্ধতির হ্যাচারি সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমার আছে। সারা বিশ্বে রিসাইক্লিং পদ্ধতির গলদা চিংড়ির হ্যাচারি এখন জনপ্রিয়।

নোটঃ চিংড়ি হ্যাচারি, পটিয়ার উপর FAO/ BOBP কতৃক প্রকাশিত বইটি ওয়েব সাইটে আছে।