জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহঃ প্রাণিসম্পদ পরিবারের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) ২০২৫ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের (স্যারের) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে প্রাণিসম্পদ খাতে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হলো।

বৈঠকে প্রতি বছর নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়কে ‘জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে — যা প্রাণিসম্পদ খাতের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার, আন্তরিকতা এবং সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

দীর্ঘদিন ধরে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, গবেষক, এনিমেল ব্রিডিং বিশেষজ্ঞ, ভেটেরিনারি চিকিৎসক এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীরা যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আসছিলেন, আজ সেই স্বপ্ন পূরণের দিন। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর সংস্কৃতি, স্থানীয় গরু, ছাগল, ভেড়া, হাঁস, মুরগি এবং কৃত্রিম প্রজনন সেবায় নিয়োজিত প্রাণিসম্পদভিত্তিক ঐতিহ্যের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। এই স্বীকৃতি আমাদের প্রাণিসম্পদ খাতের মর্যাদা, গুরুত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

এই মহান সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পেছনে যাঁদের প্রজ্ঞা, পরিশ্রম ও দিকনির্দেশনা কাজ করেছে, তাঁদের প্রতি প্রাণিসম্পদ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। প্রথমেই আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আখতার মহোদয় কে — যাঁর দূরদৃষ্টি, নীতি-নির্ধারণী প্রজ্ঞা ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে গভীর আগ্রহ এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তাঁর নেতৃত্বে খাতটি নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে, যা জাতীয় উন্নয়নের পথে এক অনবদ্য সংযোজন।

একই সঙ্গে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই জনাব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মাননীয় সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে, যিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় নিরলসভাবে কাজ করে দ্রুততম ও স্বল্প সময়ের মধ্যে এই প্রস্তাবটি নীতিগত অনুমোদনের স্তরে নিয়ে এসেছেন। তাঁর কার্যকর নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও সমন্বয় ছাড়া এই সফলতা সম্ভব হতো না।

এছাড়া প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সুযোগ্য মহাপরিচালক, ডঃ মোঃ আবু সুফিয়ান মহোদয়ের প্রেরণাদায়ক নেতৃত্ব, পরিকল্পনাগত মেধা ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা এই ঐতিহাসিক অর্জনের অন্যতম চালিকাশক্তি। মাঠপর্যায়ের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচেষ্টা তিনি এক সূত্রে গেঁথে একে বাস্তব রূপ দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত প্রাণিসম্পদ খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে, দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। এটি প্রাণিসম্পদ পরিবারের আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণাকে বহুগুণে বৃদ্ধি করবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রাণভরে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই স্বীকৃতি আমাদের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম, জাতির জন্য প্রাণিজ আমিষ ও খাদ্যনিরাপত্তায় অবদানের অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে।

লেখকঃ ড. মোঃ সফিকুর রহমান, ডেপুটি ডিরেক্টর, ডিএলএস