ডিমের যোগান বেড়ে পাইকারিতে দাম নিম্নমুখী, খামারিদের উদ্বেগ বাড়ছে

চাহিদার তুলনায় বাজারে ডিমের সরবরাহ বেশি থাকায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কমতে শুরু করেছে। খুচরা বাজারে এখনো তেমন প্রভাব না পড়লেও পাইকারি দরে বড় ধস দেখা দেওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়ছেন খামারিরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি পর্যায়ে ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পাইকারি বাজারে বুধবার লাল ডিমের ১০০ পিস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে দাম ছিল ৮১০–৮২০ টাকা। মাসখানেক আগে একই পরিমাণ ডিমের মূল্য সাড়ে ৯০০ টাকার কাছাকাছি ছিল, আর গত বছর এ সময় তা ১,১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। হিসেব অনুযায়ী প্রতি ডজন ডিম মিলছে ৯৩ টাকার কিছু বেশি দামে।

পাইকারদের দাবি, বাজারে প্রচুর পরিমাণে ডিম সরবরাহ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাম কমেছে। এতে ভোক্তারা উপকৃত হলেও উৎপাদন খরচ না উঠায় সমস্যায় পড়ছেন খামারিরা। তাদের আশঙ্কা, এই অবস্থা চলতে থাকলে ছোট আকারের অনেক খামারই টিকে থাকতে পারবে না।

তেজগাঁও থেকে মাত্র কিছুটা দূরে কারওয়ানবাজারে অবশ্য পাইকারি দাম কমার প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়নি। সেখানে ডজনপ্রতি লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু দোকানে তুলনামূলক পাইকারি দাম ডজনপ্রতি ১০৮–১১০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ—আড়তদারদের দাবি করা দাম কমতির সাথে বাস্তব ক্রয়মূল্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিমের দামের ওঠানামায় ভোক্তা ও খামারি—দু’পক্ষই কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এজন্য বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে টেকসই উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, “যেমন আলু-পেঁয়াজ সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে, তেমনি সরকারি সহায়তায় ডিম সংরক্ষণ করা গেলে সারা বছরই স্থিতিশীল চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, প্রোটিনের এই সহজলভ্য উৎসের বাজারে যাতে কোনো অসাধু চক্র অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়েও নজর দিতে হবে।