ত্রিশালে ফিস হ্যাচারি এন্ড ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশনের বার্ষিক বনভোজন ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত 

“নিরাপদ মাছ, সুস্থ মানুষ, নিরাপদ বাংলাদেশ”– এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ফিস হ্যাচারি এন্ড ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন-এর বার্ষিক বনভোজন ও সাধারণ সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের ড্রিম ভিলেজ পার্কে। সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এই দিনব্যাপী আয়োজনে সারাদেশ থেকে আগত সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফিস হ্যাচারি এন্ড ফার্ম ওনার্স এসোসিয়েশন-এর উপদেষ্টা এবিএম শামসুল আলম বাদল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ড. মো. আলমগীর, মো. জসিম উদ্দিন এবং মো. রফিকুল ইসলাম আকন্দ। পুরো অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেন।

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আয়োজিত এই বনভোজন ও সাধারণ সভায় সহযোগিতা করেছেন আব্দুল্লাহ পোল্ট্রি ফিড মিল, সুষম ফিড মিল, প্যারাগন গ্রুপ, কোয়ালিটি ফিডস লিমিটেড, অলওয়েলস মার্কেটিং লিমিটেড, নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি, এসিআই এনিমেল হেলথ, ক্লিনিকল এগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড, ভিএনএফ এগ্রো লিমিটেড, দ্য একমি ল্যাবরেটরিজ, মেরিট অ্যানিমেল সায়েন্স, লার্সেন এগ্রো লিমিটেড, আল্টিমেট বায়ো সায়েন্স এবং এইচকেএ এশিয়া ফিডস এন্ড ফার্মস লিমিটেড।

সভায় বক্তারা জানান, হরমোন ইনজেক্ট করা মাছ বাজারজাত করলে মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়, তাই হ্যাচারিতে ব্যবহৃত হরমোনপ্রাপ্ত মাছ সাথে সাথেই বাজারে ছাড়ানো উচিত নয়। তারা বলেন, এ ধরনের মাছ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে এবং সুস্থ প্রজন্ম ও নিরাপদ খাদ্যের জন্য সকলের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বক্তারা আরও জানান, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে মানুষের অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি হয়, যা ভবিষ্যতে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরিষ্কার পানি, সঠিক খাবার এবং ভালো ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাছের বেশিরভাগ রোগ সহজেই প্রতিরোধ করা যায় বলে তারা উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ওষুধ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেন বক্তারা। শেষে তারা বলেন, ‘নিরাপদ মাছ উৎপাদন করি, ভোক্তার স্বাস্থ্য রক্ষা করি’—এটাই আমাদের সকলের যৌথ প্রতিশ্রুতি।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তাদের বক্তব্যে যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় তার মধ্যে ছিল—পোল্ট্রি লিটার মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান। পোল্ট্রি লিটারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, ক্ষতিকর গ্যাস এবং ভারী ধাতুর উপস্থিতি মাছের দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে, পাশাপাশি মাছের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর মাছ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। “নিরাপদ মাছ, স্বাস্থ্যকর ভোক্তা, টেকসই মৎস্য চাষের নিশ্চয়তা”—এই বার্তাও বিভিন্ন প্রচারণামূলক উপকরণে তুলে ধরা হয়।

দিনব্যাপী আয়োজনে এসোসিয়েশনের সদস্যগণ ছাড়াও মৎস্য খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন এবং তাদেরকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়েছে। আলোচনা, মতবিনিময়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনোদনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।