নেত্রকোনার মদনে হাঁস শিল্পে বিপ্লব : বছরে আড়াই কোটি হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন

“ওয়াটার ফাউল (হাঁস/রাজহাঁস) সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম ও মাংস উৎপাদন” শীর্ষক তিনদিনব্যাপী খামারী প্রশিক্ষণ কোর্স নেত্রকোনার মদনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৯-২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে আয়োজিত এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টার। প্রশিক্ষণ কর্মসূচিটি অর্থায়ন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।

প্রশিক্ষণে জানানো হয়, মদন উপজেলার কুতুরিকোনা গ্রাম বর্তমানে হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে দেশের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই গ্রামে গড়ে ৭০ হাজার হাঁসের বাচ্চা উৎপাদিত হয়। সাপ্তাহিক উৎপাদন প্রায় ৫ লাখ এবং মাসিক উৎপাদন দাঁড়ায় ২০ লাখ। বছরে প্রায় আড়াই কোটি হাঁসের বাচ্চা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এই বিপুল উৎপাদন থেকে প্রতিবছর কেবল একটি গ্রাম থেকেই ১০০ কোটিরও বেশি টাকার ব্যবসা হচ্ছে। যা গ্রামীণ অর্থনীতি, তাৎক্ষণিক নগদ অর্থপ্রবাহ, নারী ক্ষমতায়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, জীবিকা উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

এই সাফল্যের পেছনে অন্যতম ভূমিকা রেখেছেন Rice Husk Incubation System Society-এর সভাপতি মো. ইয়াসিন মিয়া। তাঁর নেতৃত্বে কুতুরিকোনা সম্ভাবনাময় পোল্ট্রি জোন হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ অঞ্চলে হাঁস শিল্পের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিএলআরআই’র গবেষণা ও মাঠ কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।