পাবনা’র আটঘরিয়ায় উত্তম কৃষি চর্চা অনুসারণকৃত প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন

১৪ জুন ২০২৬ সকালে পাবনা’র আটঘরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে মিয়াপাড়া পার্টনার ফিল্ড স্কুলে বাস্তবায়িত কৃষক‌ পর্যায়ে উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) অনুসারণকৃত প্রদর্শনী প্লট পরিদর্শন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, পাবনা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক, পার্টনার প্রকল্পের বগুড়া অঞ্চলের মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ কৃষিবিদ মাসুদ আহমেদ, আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল হাই, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার শাহাবুদ্দিন আহমেদ, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম, মোঃ জাহিদুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। GAP-এর নিয়ম মেনে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক বলেন, সরকারের ‘পার্টনার’ (PARTNER) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ আটঘরিয়ায় কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, আপনারা মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা। মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন এবং কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন, কিভাব কিউআর কোড তৈরি করে ব্যবহার করবেন এগুলো আপনাদের আজ আমি নিজে হাতে করে দেখালাম। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল ‘নিরাপদ ফসল’ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আপনারা GAP সার্টিফিকেট পাবেন।