বিএলআরআই-এ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে চলমান গবেষণা প্রকল্পসমূহের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন গবেষণা প্রকল্পসমূহের মধ্যবর্তী মূল্যায়ন ১৩ মে ২০২৬ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অর্থবছরে পাঁচটি গবেষণা ক্ষেত্রে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন মোট ৬৫ (পয়ষট্টি) টি গবেষণা প্রকল্পের মধ্যমেয়াদী অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।

সকাল ১০.০০ ঘটিকায় প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পসমূহের মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ কমিটির সভা শুরু হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। সভায় বিশেষজ্ঞ সদস্যগণের সাথে সাথে ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ ও প্রকল্প পরিচালকগণও উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই উপস্থিত সকলকের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান। এসময় তিনি চলমান অর্থবছরের জন্য চলমান প্রকল্পসমূহের ক্ষেত্রভিত্তিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেন।

এরপর বিশেষজ্ঞ সদস্যরা একে একে নিজেদের মতামত উপস্থাপন করেন এবং গবেষকদের প্রতি বিভিন্ন দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় গবেষণা প্রকল্পের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে বরং আউটপুট-আউটকাম-ইমপ্যাক্ট বিবেচনায় নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা এবং সুষ্ঠুভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে খামারিদের জন্য লাভজনক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করার বিষয়ে তারা গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি নানাবিধ প্রোডাক্ট ও ভ্যাকসিন তৈরি সংক্রান্ত গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ করার বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের উদাহরণ দিয়ে তারা আমাদের দেশেও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভবপর বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মহাপরিচালক মহোদয় তার বক্তব্যের শুরুতেই বিশেষজ্ঞ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান। এসময় তিনি সকলকে সভায় উপস্থিত হবার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং প্রকল্পসমূহ মূল্যায়নের ক্ষেত্রে গুণমানকে বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়নের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের প্রতি অনুরোধ জানান। পাশাপাশি আলোচনায় গবেষণা সংক্রান্ত যে সকল সীমাবদ্ধতা আলোচনায় উঠে আসে তা নিরসনে বিএলআরআই ভবিষ্যতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অ্যানিমেল এন্ড পোল্ট্রি ব্রিডিং এন্ড জেনেটিকস বিষয়ে মোট ১৮ টি গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর পশু প্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম ভূঁঞা এবং অধ্যাপক ড. মো. মুনির হোসেন। ইনস্টিটিউটের ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নটি অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে অ্যানিমেল এন্ড পোল্ট্রি নিউট্রিশন, ফিডস এন্ড ফডার বিষয়ক গবেষণা ক্ষেত্রে মোট ১৪ টি গবেষণা প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়। মূল্যায়নে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফ আহমেদ চৌধুরী এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এর পরিচালক (উৎপাদন) ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান। ইনস্টিটিউটের পোল্ট্রি রিসার্চ সেন্টারের সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

অ্যানিমেল এন্ড পোল্ট্রি ডিজিজ এন্ড হেলথ শীর্ষক গবেষণা ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরে মোট ১৩ টি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই প্রকল্পগুলো মূল্যায়ন করেন বিএলআরআই এর সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গিয়াসউদ্দীন এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর প্রণিসম্পদ বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। ইনস্টিটিউটের ট্রান্সবাউন্ডারি অ্যানিমেল ডিজিজ রিসার্চ সেন্টারের সম্মেলন কক্ষ ভেন্যুতে মূল্যায়নটি অনুষ্ঠিত হয়।

পাশপাশি বায়োটেকনোলজি, ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স, ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট এন্ড ডেইরি রিসার্চ বিষয়ে চলতি অর্থবছরে ১৫ টি গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞ হিসেবে এই প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিট এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন। সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নটি ইনস্টিটিউটের বায়োটেকনোলজি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও, সোশিওইকোনোমিকস এন্ড ফার্মিং সিস্টেম রিসার্চ বিষয়ক গবেষণা ক্ষেত্রে মোট ৫টি প্রকল্প মূল্যায়নের জন্য উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সদস্য পরিচালক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদিকা হক উক্ত সেশনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রকল্পসমূহ মূল্যায়ন করেন। প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলার সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নটি অনুষ্ঠিত হয়।