বিভিএ আয়োজিত প্রি-সার্ভিস হ্যান্ডস-অন রেসিডেন্সি ট্রেনিং-এর সার্টিফিকেট বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

দেশের প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি সেক্টরে দক্ষ ও ব্যবহারিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ পেশাদার ভেটেরিনারিয়ান তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশন (বিভিএ) আয়োজিত প্রি-সার্ভিস হ্যান্ডস-অন রেসিডেন্সি ট্রেনিং প্রোগ্রামের সার্টিফিকেট বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান আজ ২৫ অক্টোবর ২০২৫ রাজধানীর বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তিন মাসব্যাপী এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ১৫ জন মেধাবী ও উদ্যমী ভেটেরিনারি গ্রাজুয়েট অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণার্থীরা পেট প্র্যাকটিস, পোল্ট্রি ফার্ম, হ্যাচারি, ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান। এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তাদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে পেশাগত দক্ষতায় রূপান্তরিত করবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মিস ফরিদা আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. মো. আবু সুফিয়ান, মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর; প্রফেসর ড. বাহানুর রহমান, ডিন, ভেটেরিনারি অনুষদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়; ড. মো. বয়জার রহমান, পরিচালক (প্রশাসন), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর; এবং আহকাব সভাপতি সায়েমুল হক। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ভেটেরিনারি এসোসিয়েশনের আহবায়ক ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার। সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শাহাদাত হোসেন পারভেজ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে দক্ষ ভেটেরিনারিয়ানদের বিকল্প নেই। বিভিএ আয়োজিত এই রেসিডেন্সি ট্রেনিং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভেটেরিনারি পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” তিনি আরও জানান, ভেটেরিনারি আইন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে, যা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে, পাশাপাশি নিরাপদ প্রাণিখাদ্যের জন্য ফিড আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “দেশে প্রায় ৫ কোটি প্রাণীর চিকিৎসা সেবার জন্য প্রতিটি উপজেলায় মাত্র একজন ভেটেরিনারিয়ান রয়েছেন, অথচ মানুষের চিকিৎসার জন্য নয়জন ডাক্তার থাকেন। তাই প্রতিটি উপজেলায় কমপক্ষে তিন থেকে চারজন ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগ দেওয়ার সময় এসেছে।” তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, নভেম্বর মাসেই ভেটেরিনারি ড্রাগ অ্যাক্ট বাস্তবায়ন করা হবে এবং ভেটেরিনারি মেডিসিন ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সকে কম্বাইন্ড ডিগ্রি হিসেবে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান শিকদার, যিনি সারা বছরব্যাপী এই ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিসিএস লাইভস্টক ক্যাডার এসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মান্নান মিয়া, আহকাব সভাপতি সায়েমুল হক, ভ্যাব মহাসচিব ডা. কবির হোসেন এবং দ্যা ভেট এক্সিকিউটিভ সভাপতি ডা. আল আমিন। ডা. আল আমিন ভেটেরিনারি ড্রাগ অ্যাক্টের দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
ডা. কবির হোসেন ভেটেরিনারি সেবাকে জরুরি সেবার আওতাভুক্ত করা ও স্বতন্ত্র প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার দাবি তোলেন।

জনাব সায়েমুল হক বলেন, “মানুষ ১০% শেখে ক্লাসরুমে, ২০% শেখে প্রশিক্ষকের কাছ থেকে, আর ৭০% শেখে কাজ করতে করতে—এই প্রশিক্ষণই তার বাস্তব প্রয়োগের চমৎকার উদাহরণ।”

প্রশিক্ষণার্থীদের পক্ষে ডা. সানজিদা হায়দার ও ডা. নেহাল হাসনাইন তাঁদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিভিএকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভেটেরিনারি সেবাকে জাতীয় জরুরি সেবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি ১৫ জন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে সনদপত্র তুলে দেন।
সভাপতি ডা. সফিউল আহাদ সরদার উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এমন প্রশিক্ষণ আয়োজনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিভিএ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে কাজ করে ভেটেরিনারি গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে।