বিভিন্ন প্রকার চুনের কার্যকারিতা এবং পানির পি.এইচ বৃদ্ধি করার জন্য কোন চুন কি পরিমাণে প্রয়োগ করতে হবে?

মাছ ও চিংড়ি চাষে চুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। পুকুরে চাষ চলাকালে পানির পি. এইচ. ৭ বা তা থেকে কমে গেলে পি.এইচ বৃদ্ধির জন্য চুন প্রয়োগ করতে হয়। বাজারে বিভিন্ন প্রকার চুন পাওয়া যায়। তাই কোন চুন প্রয়োগ করলে কি ধরনের ফলাফল পাওয়া যাবে তা চাষিদের জানা থাকা জরুরী।

বিভিন্ন প্রকার চুন প্রয়োগের মাত্রাঃ পাথুরে চুন( ক্যালসিয়াম কার্বোনেট,CaCO3, ১০-১৫/একর), পোড়া চুন( CaO, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, ১০-১৫ কেজি/একর), নির্মাণ কাজের চুন( ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্লোরাইড, Ca(OH2), ২০-২৫ কেজি/একর) এবং ডলোমাইট CaMg(CO3)2, ২০-৩০ কেজি/ একর) ব্যবহার করলে পানির পি. এইচ. বাড়বে। এখানে উল্লেখ্য যে চুন প্রয়োগের ১ দিন পর পি.এইচ সঠিক পর্যায়ে না আসলে পুনঃ একটা নিজস্ব নির্ধারিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।

এখন কথা হল কোন চুন ব্যবহার উত্তম?

  • পাথুরে চুনঃ এ চুন ব্যবহার উত্তম। ইহা ধীরে ধীরে পানির পি.এইচ বাড়ায় এবং স্থির রাখে। এ চুন পরিমাণে কিছু বেশী ব্যবহার করলেও কোন সমস্যা হয় বা।
  • নির্মাণ কাজের চুনঃ এ চুন হঠাৎ পানির পি. এইচ বাড়িয়ে ফেলে বিধায় তা বিকাল বেলা ব্যবহার অনুচিত।
  • পোড়া চুনঃ এ চুনের পি. এইচ বৃদ্ধির ক্ষমতা নির্মান কাজের চুন থেকে অধিক। এ চুনও হঠাৎ পি. এইচ বাড়িয়ে ফেলে এবং আবার তা দ্রুত কমে যায়। চাষ চলাকালে এ চুন ব্যবহার করলে হঠাৎ পি.এইচ বেড়ে সমস্যা হতে পারে। তাই চাষকালে এ চুন ব্যবহার না করে পুকুর তৈরীর সময় ব্যবহার করা ভাল।
  • ডলোমাইটঃ ইহা ক্যালসিয়াম- ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ চুন। এ চুন ব্যবহার করা হলে পানির পি. এইচ, নিরপেক্ষতা ক্ষমতা ও ম্যাগনেসিয়াম বাড়ে। এ চুন ধীরে ধীরে পি.এইচ বাড়ায় এবং তা স্থির রাখে। এ চুন হল সর্বাধিক উত্তম চুন। তবে এ চুনের দাম বেশী হলে পাথুরে চুন ব্যবহার করাই শ্রেয়।

বিঃদ্রঃ প্রথমে কম মাত্রায় চুন প্রয়োগ করে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে নিজে নিজে সঠিক মাত্রা নির্ধারণ একটি উত্তম পন্থা।