| মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। মাছ, ডিম, দুধ ও মাংস মানুষের পুষ্টির প্রধান উৎস হলেও এখনও দেশের সব মানুষ নিয়মিতভাবে এসব খাদ্য পায় না। এ খাতে বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় শিক্ষিত তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে ঢাকার সেনানিবাসস্থ সেনাপ্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ৩য় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে মনোনীত হয়ে তিনি সমাবর্তনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, পুষ্টির ঘাটতি পূরণের নামে মাংস আমদানি দেশের প্রান্তিক খামারিদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। এজন্য সরকার দেশীয় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি বলেন, স্থানীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, পরিবেশ দূষণ, নদী-নালা ও খাল-বিল ভরাটের ফলে দেশের প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ আহরণের কারণে ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় বর্তমানে সমুদ্রে মাছের পরিমাণ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। ফরিদা আখতার বলেন, অক্সিজেন-স্বল্প অঞ্চল সৃষ্টি, প্লাস্টিক দূষণ এবং পর্যটনের সময় সমুদ্রে বর্জ্য ফেলা সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে মারাত্মক অপরাধ উল্লেখ করে পরিবেশ ও জলজ সম্পদ রক্ষায় সকলকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষিত তরুণদের শেষ দায়িত্ব নয়। দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এখনও উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকায় সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনে শিক্ষিত তরুণদের দায়িত্ব আরও বেশি। ২০২৪ সালে তরুণ প্রজন্ম অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশকে নতুনভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শুধু ব্যক্তি পরিবর্তন যথেষ্ট নয়, প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার জরুরি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে ভিন্ন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ নির্বাচনে তরুণদের শুধু সরকার গঠন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি ও কাঠামো নির্ধারণেও ভূমিকা রাখতে হবে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা তরুণদের ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ধূমপান হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্ট্রোকসহ নানা অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। আইন প্রয়োগের অপেক্ষা না করে আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের পক্ষ থেকে অর্পিত ক্ষমতাবলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের যোগ্যতা অর্জনকারী গ্রাজুয়েটদের ডিগ্রি প্রদান করেন এবং সকল গ্রাজুয়েটকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস. এম. এ. ফয়েজ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কাজী জামিল আজহার এবং উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজনরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। |







