আরহাম এগ্রোভেটে সেলস ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিলেন মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রধান

বাংলাদেশের ভেটেরিনারি ও পোল্ট্রি শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা, সততা ও নেতৃত্বগুণের স্বাক্ষর রেখে চলা একজন পরিচিত নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রধান। প্রায় দেড় দশকের বেশি সময় ধরে এগ্রোভেট ও প্রাণিস্বাস্থ্য খাতে সক্রিয় এই পেশাজীবী সম্প্রতি আরহাম এগ্রোভেট–এ সেলস ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। তিনি পহেলা ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আরহাম এগ্রোভেটের সেলস ও মার্কেটিং কার্যক্রম সারাদেশে সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নতুন কর্মস্থলে যোগদান প্রসঙ্গে মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, আরহাম এগ্রোভেটে যুক্ত হতে পেরে তিনি গভীরভাবে আনন্দিত ও গর্বিত। তার মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে শুধু পদ বা দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের ভিশন, পণ্যের মান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ও আমেরিকান অরিজিনভিত্তিক মেডিসিন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নতমানের সোর্সিং এবং একটি শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা কাঠামো—এসব বিষয় তাকে আরহাম এগ্রোভেটের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার পেশাগত উন্নয়ন আরও সুদৃঢ় হবে।

নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি তিনি। আরহাম এগ্রোভেটের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডাঃ এম. নজরুল ইসলাম এবং হেড অব বিজনেস মোঃ শাহজাহান এর প্রতি তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের আস্থা ও সহযোগিতাই তাকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নতুন পথচলায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোঃ মনিরুল ইসলামের কর্মজীবনের শুরু ২০০৯ সালের ৩১ আগস্ট। সে সময় তিনি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এগ্রোভেট ডিভিশনে সেলস প্রমোশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। কর্মজীবনের প্রথম দিন থেকেই তিনি দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার পরিচয় দেন। রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলে কাজ করার সময় মাঠপর্যায়ে খামারি, ডিলার ও ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে তিনি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকায় ইনস্টিটিউট বিজনেসে দায়িত্ব পালনকালে তার দক্ষতা আরও পরিপক্ব হয়। দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ৮ মাস স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত থেকে তিনি ধাপে ধাপে পদোন্নতি লাভ করেন এবং ফিল্ড ম্যানেজার হিসেবে ইনস্টিটিউট সেলস পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ে তিনি একাধিকবার সেরা পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি অর্জন করেন এবং তরুণ কর্মীদের প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০২২ সালের মে মাসে তিনি মাল্টিন্যাশনাল প্রতিষ্ঠান এলানকো বাংলাদেশ লিমিটেডে রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করেন। ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ নিয়ে গঠিত বৃহৎ কর্মক্ষেত্রে তিনি দায়িত্ব পালন করেন দক্ষতার সঙ্গে। মাল্টিন্যাশনাল পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার নেতৃত্বগুণকে আরও শাণিত করে। সেখানে তিনি টিম ম্যানেজমেন্ট, টার্গেট বাস্তবায়ন এবং কৌশলগত পরিকল্পনায় সফলতার পরিচয় দেন। কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি স্বল্প সময়ের জন্য হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের এনিমেল হেলথ ডিভিশনে কাজ করেন এবং এরপর আদর্শ এগ্রোভেট লিমিটেডে সেলস ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতাই তার পেশাগত ভান্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি মনে করেন।

শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন মনোযোগী ও ধারাবাহিক। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কৌচা কৃষ্ণপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া মোঃ মনিরুল ইসলাম কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠেন। পশু-পাখির প্রতি ভালোবাসা এবং গ্রামীণ বাস্তবতার কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণাই তাকে ভেটেরিনারি ও এগ্রোভেট খাতে আসতে উৎসাহিত করে। তিনি গোবিন্দগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ থেকে উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ (মার্কেটিং) সম্পন্ন করেন। শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ই তাকে একজন পরিপূর্ণ সেলস প্রফেশনালে পরিণত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি ফিড নিউজ বিডি ডট কম এর সম্পাদক মোঃ আল-আমিনকে বলেন, ভেটেরিনারি ও প্রাণিসম্পদ খাতে কাজ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ভূমিকা রাখতে চান। নিজের ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পাশাপাশি তিনি চান তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দিয়ে প্রতিষ্ঠান, সহকর্মী এবং খামারিদের উপকার করতে। নতুন প্রজন্মের গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, কারণ তার মতে ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এই খাতের ভূমিকা অপরিসীম।

দীর্ঘ ১৬ বছর ৫ মাসের বেশী কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও মানবিক মূল্যবোধকে সঙ্গে নিয়ে মোঃ মনিরুল ইসলাম এখন আরহাম এগ্রোভেটে নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন। শিল্প সংশ্লিষ্টদের ধারণা, তার এই নতুন যাত্রা আরহাম এগ্রোভেটের সেলস ও মার্কেটিং কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং ভেটেরিনারি খাতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।