| টিউশনি করে জমানো অল্প সঞ্চয়কে পুঁজি করে পোলট্রি খাতে যাত্রা শুরু করেছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা আসাদুজ্জামান। পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করা সেই অর্থ দিয়েই তিনি প্রথমে সীমিত পরিসরে মুরগি পালন শুরু করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে তিনি লেয়ার মুরগির বাণিজ্যিক খামারের দিকে মনোযোগ দেন, কারণ নিয়মিত ডিম উৎপাদনকে তিনি স্থায়ী আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।
পরিকল্পিতভাবে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকায় খামার স্থাপন করেন। উপযুক্ত পরিবেশ, যোগাযোগ সুবিধা এবং রাজধানীর বাজারের নিকটতা বিবেচনায় স্থান নির্বাচন করা হয়। শুরুতে প্রায় ১,২০০ লেয়ার মুরগি দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও ধারাবাহিক ব্যবস্থাপনা ও পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে খামারের পরিধি দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে তাঁর খামারে প্রায় ২৫ হাজার লেয়ার মুরগি রয়েছে এবং প্রতিদিন সমপরিমাণ ডিম উৎপাদিত হচ্ছে। খামার পরিচালনায় তিনি আধুনিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। নির্ধারিত ফিড ব্যবস্থাপনা, সময়মতো টিকাদান, কঠোর বায়োসিকিউরিটি এবং ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষণ—এসব কৌশল অনুসরণ করায় উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে। সংগৃহীত ডিম নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বাছাই ও প্যাকেজিং করে সরাসরি ঢাকার বিভিন্ন পাইকারি বাজার ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পাঠানো হচ্ছে, ফলে বাজার ব্যবস্থাপনাতেও তিনি একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলেছেন। এই খামারের মাধ্যমে কয়েক ডজন মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে পোলট্রি খাতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা আরও বিস্তৃত করা এবং নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং ধৈর্য থাকলে ছোট পুঁজি থেকেও পোলট্রি খাতে টেকসই সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। |







