নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে শ্রীলঙ্কায় সার্কের আঞ্চলিক কর্মশালা শুরু

দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোগকে টেকসই ব্যবসায় রূপ দেওয়া এবং বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ তৈরির লক্ষ্যে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোয় আজ সোমবার শুরু হয়েছে সার্কের তিন দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা। এতে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, কারিগরি বিশেষজ্ঞ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪৫ জন অংশ নিচ্ছেন।

দক্ষিণ এশিয়ায় কৃষি ও প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও বাজারসংযোগের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন শীর্ষক এ কর্মশালা চলবে আগামী ২৬ আগস্ট পর্যন্ত। কর্মশালাটি আয়োজন করছে সার্ক কৃষি কেন্দ্র, শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশের উন্নত পুষ্টির জন্য বৈশ্বিক জোট এবং বাংলাদেশের টেকসই কৃষি ফাউন্ডেশন।

কর্মশালায় বাংলাদেশ, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কৃষি ও জীববিজ্ঞান কেন্দ্র, দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু কর্ম নেটওয়ার্ক, ভেল্টহাঙ্গারহিলফে, স্বেচ্ছাসেবা বিদেশ, ওয়েভ ফাউন্ডেশন এবং হেইফার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে নারীনেতৃত্বাধীন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উদ্যোগের সফল অভিজ্ঞতা, উদ্ভাবনী মডেল এবং নীতিগত দিকনির্দেশনা বিনিময়ের একটি কার্যকর আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীলঙ্কার কৃষি, প্রাণিসম্পদ, ভূমি ও সেচ মন্ত্রণালয়ের সচিব ডি. পি. বিক্রমাসিংহে। সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এস. পিয়াসিরি এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. বি. এস. এস. পেরেরা।

কর্মশালার লক্ষ্য ও প্রত্যাশিত ফলাফল তুলে ধরেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ কর্মসূচি বিশেষজ্ঞ (প্রাণিসম্পদ) ড. মো. ইউনুস আলী। দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং বাজারসংযোগ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মানবসম্পদ উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক ড. জি. সি. এস. কুরুগালা।

উদ্বোধনী অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন টেকসই কৃষি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফারহাদ জামিল, উন্নত পুষ্টির জন্য বৈশ্বিক জোটের কর্মসূচি প্রধান ড. আশেক মাহফুজ এবং সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক শাহিয়া আলী মানিক। সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন এবং দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন তহবিল) তানভীর আহমদ তোরফদার ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও অর্থায়ন, প্রযুক্তি, দক্ষতা, সংগঠিত বাজার এবং ব্যবসায়িক সহায়তায় সীমিত প্রবেশাধিকার তাঁদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার পথে বড় বাধা। কর্মশালায় তাই নারীকে শুধু উৎপাদক হিসেবে নয়, উদ্যোক্তা, মূল্যশৃঙ্খলের সক্রিয় অংশীদার এবং অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিন দিনের কর্মশালায় নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ, জলবায়ু সহনশীল উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টি, পারিবারিক কৃষি, টেকসই জীবিকা এবং নারী ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও নীতিগত ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিভিন্ন দেশের সফল উদ্যোগ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেগুলো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রয়োগ ও সম্প্রসারণের সুযোগও খোঁজা হবে। কর্মশালার অন্যতম লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ায় নারীনেতৃত্বাধীন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উদ্যোগের বিকাশ এবং বাজারসংযোগ শক্তিশালী করতে একটি আঞ্চলিক কৌশল ও কার্যকর নীতিকাঠামোর সুপারিশ প্রণয়ন।