| মাছ চাষে সফলতার জন্য পুকুরের পানির গুণগত মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির অম্ল-ক্ষারত্ব বা পি.এইচ (pH) মাছের বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সামগ্রিক উৎপাদনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। সাধারণত ৬.৫ থেকে ৮.৫ এর মধ্যে পানির পিএইচ থাকলে মাছের জন্য তা উপযোগী ধরা হয়। কিন্তু অনেক সময় পুকুরের পানির পিএইচ মাত্রা বেড়ে গিয়ে মাছ চাষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পানির পিএইচ নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। নিচে পুকুরের পানির পিএইচ কমানোর দুটি প্রচলিত ও নিরাপদ পদ্ধতি তুলে ধরা হলো।
এলাম বা ফিটকারী প্রয়োগ করে পি.এইচ কামানোঃ দ্রত সময়ে পানির পি.এইচ কমানোর একটি উত্তম পন্থা হল পানিতে ফিটকারী বা এলাম প্রয়োগ করা। প্রথমে পানিতে ১০ পি.পি.এম হারে বা প্রতি ১ একর পানির ১ ফুট গভীরতার জন্য ১২ কেজি হারে প্রয়োগ করে পি. এইচ পরীক্ষা করে প্রয়োজনে পুনরায় প্রয়োগ করতে হবে। তবে পুকুরের পানির এলকালিনিটি ২০ বা তার নিম্নে থাকা পানিতে এলাম প্রয়োগ করা যাবে না। কম এলকালিনিটির পানিতে সামান্য পরিমাণ এলাম প্রয়োগ করলে হঠাৎ পি.এইচ মাত্রাধিক কমে ক্ষতি হতে পারে । চাউলের কুড়া, গমের ভুষি, শষ্যকণা ইত্যাদি প্রয়োগ করে পি.এইচ কমানোঃ প্রতি একর পুকুরে দৈনিক ৬-৮ কেজি হারে ১০-১২ দিন সময় পর্যন্ত চাউলের কুড়া বা গমের ভুষি প্রয়োগ করলে পি.এইচ ধীরে ধীরে কমে যাবে। তবে দৈনিক পুকুরে প্রয়োগকৃত জৈব সার ও চাউলের কুড়া বা গমের ভুষি সরবরাহের মোট পরিমাণ ২০ কেজির অধিক হওয়া ক্ষতিকর হতে পারে। এ পদ্ধতিতে পি.এইচ কমানো উত্তম এবং নিরাপদ । তবে, এ পদ্ধতিতে তাৎক্ষণিক ভাবে পি.এইচ কমবে না। পানিতে মাত্রাধিক জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা হলে পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে। তাই মাত্রাধিক জৈব পদার্থ প্রয়োগ করা যাবে না। |







