| বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রাণিসম্পদ শিল্প আর শুধুমাত্র একটি জীবিকাভিত্তিক খাত নয়; এটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পখাত এবং সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী সেক্টরে পরিণত হয়েছে। ডেইরি, মিট, পোল্ট্রি, ব্রিডিং, জেনেটিক্স, ফিড ইন্ডাস্ট্রি, ভ্যাকসিন ও বায়োলজিক্যালস, হালাল ফুড, প্রসেসিং ও ভ্যালু-এডেড পণ্য—সব মিলিয়ে প্রাণিসম্পদ খাত এখন বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি কৌশলগত স্তম্ভ।
এই বাস্তবতায় B.Sc. in Animal Husbandry (AH) সিলেবাসকে কেবল একটি প্রথাগত একাডেমিক কাঠামো হিসেবে নয়, বরং ভবিষ্যৎ শিল্প, রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার উপযোগী মানবসম্পদ তৈরির রোডম্যাপ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সিলেবাসে কোর্স বা চ্যাপ্টারের নাম নয়, বরং গ্রাজুয়েটদের মধ্যে কী ধরনের গুণাবলি ও দক্ষতা থাকতে হবে সেটিই মূল বিবেচ্য হওয়া প্রয়োজন। আমার মতে, একজন আধুনিক ও সময়োপযোগী Animal Husbandry Graduate-এর মধ্যে নিম্নোক্ত গুণাবলি ও দক্ষতাগুলো থাকা অত্যন্ত জরুরি: ১. Industry-Oriented Mindset: গ্রাজুয়েটদের মানসিকতা হতে হবে শিল্পভিত্তিক ও বাজারমুখী। তারা যেন কেবল সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুত না হয়, বরং প্রাইভেট সেক্টর, কর্পোরেট ফার্মিং, ডেইরি ও মিট ইন্ডাস্ট্রি, ফিড ও ব্রিডিং কোম্পানিতে কাজ করার জন্য সক্ষম হয়। তাদের বুঝতে হবে প্রাণিসম্পদ এখন একটি “production system” নয়, এটি একটি “business ecosystem”। ২. Practical & Field-Based Problem Solving Skill: গ্রাজুয়েটদের মাঠ পর্যায়ের বাস্তব সমস্যা সমাধানে পারদর্শী হতে হবে। যেমন:
৩. Value Chain & Supply Chain Understanding: ফার্ম থেকে শুরু করে প্রসেসিং প্ল্যান্ট, কোল্ড চেইন, পরিবহন, মার্কেটিং ও এক্সপোর্ট পর্যন্ত পুরো ভ্যালু চেইনের উপর ধারণা থাকতে হবে। একজন AH গ্রাজুয়েট যেন বোঝে—তার কাজ শুধু প্রাণিপালন নয়, বরং একটি পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পর্যন্ত যাত্রার অংশ। ৪. Export Orientation & Global Market Awareness: গ্রাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা, খাদ্য নিরাপত্তা, হালাল কমপ্লায়েন্স, ট্রেসেবিলিটি, রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের জন্য কী মানদণ্ড দরকার, সেটি জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৫. Breeding, Genetics & Advanced Reproductive Technology Orientation: স্থানীয় জার্মপ্লাজম উন্নয়ন, প্রুভেন বুল, প্রোজেনি টেস্টিং, সিমেন প্রসেসিং, জেনোমিক সিলেকশন, IVF, Embryo Transfer, Cryopreservation সম্পর্কে প্র্যাকটিক্যাল কনসেপ্ট থাকতে হবে। এটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জেনেটিক এক্সপোর্ট সম্ভাবনার ভিত্তি তৈরি করবে। ৬. Commercial & Financial Literacy: একজন AH গ্রাজুয়েটকে খামার বা প্রকল্পকে একটি “business unit” হিসেবে ভাবতে শিখতে হবে। তাদের জানতে হবে:
৭. Digital & Data-Based Livestock Management: ডিজিটাল রেকর্ড কিপিং, ফার্ম ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, ট্রেসেবিলিটি সিস্টেম, AI-বেইজড সিদ্ধান্ত সহায়তা, ডাটা অ্যানালিটিক্সের বেসিক দক্ষতা থাকা দরকার। ভবিষ্যতের প্রাণিসম্পদ খাত হবে ডাটা-ড্রিভেন। ৮. Communication Skill & Professional Ethics: গ্রাজুয়েটদের হতে হবে পেশাদার, দায়িত্বশীল ও নৈতিকতায় দৃঢ়। তাদের দক্ষতা থাকতে হবে:
৯. Climate Smart & Sustainable Livestock Management: গ্রাজুয়েটদের জানতে হবে:
১০. Entrepreneurship & Innovation Mindset: AH গ্রাজুয়েটরা যেন “Job Seeker” নয়, বরং “Job Creator” হয়। তাদের মধ্যে থাকতে হবে:
একই সঙ্গে, একজন গ্রাজুয়েটকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হলে নিম্নোক্ত Standard Protocol & Compliance Awareness অত্যন্ত জরুরি: যেমন-
সবশেষে বলতে চাই, B.Sc. in Animal Husbandry সিলেবাসের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত এমন মানবসম্পদ তৈরি করা যারা:
এই বৈশিষ্ট্য ও দক্ষতাগুলোকে ভিত্তি করে যদি একাডেমিয়া সিলেবাস ও কনটেন্ট ডিজাইন করা হয়, তাহলে আমাদের গ্রাজুয়েটরা কেবল দেশীয় চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদাও সফলভাবে পূরণ করতে পারবে। লেখকঃ ড. মোঃ সফিকুর রহমান, ডেপুটি ডিরেক্টর, প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর। |







