বাকৃবিতে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ব্যবস্থা সহজীকরণে অটোমেশন পদ্ধতি চালুর সুপারিশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবসরগ্রহণকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাসিক পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদান সহজীকরণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির রিপোর্ট ও সুপারিশ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬ ) ভাইস-চ্যান্সেলরের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

গত ২৭ মে ২০২৫ ভাইস-চ্যান্সেলর এর আদেশমূলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো: আলী রেজা ফারুককে সভাপতি এবং আইসিটি সেলের পরিচালক প্রফেসর ড. মো: রুস্তম আলী, হিসাব শাখার এডিশনাল ট্রেজারার মো: সাজ্জাদ হোসেন মণ্ডল এবং সংস্থাপন শাখা-৫ (পেনশন)-এর এডিশনাল রেজিস্টার মো: সাহেবুল ইসলাম খাঁনকে সদস্য এবং হিসাব শাখার (পেনশন গ্রুপ) ডেপুটি ট্রেজারার মো: দেলোয়ার হোসেনকে সদস্য-সচিব করে কমিটি গঠন করা হয় । এছাড়া কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রেজারার (অ. দা.) প্রফেসর ড. হুমায়ুন কবির এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন।

কমিটির কার্যপরিধিতে জানানো হয়, বাকৃবির অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা দেশের বিভিন্ন জেলায় এবং বিদেশে অবস্থান করার কারণে প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ে বিল ফরম হিসাব শাখায় জমা দিতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই সমস্যা দূর করতেই পেনশন ব্যবস্থা সহজীকরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কমিটির প্রধান সুপারিশসমূহ হচ্ছে ,বাকৃবির পেনশন, উৎসব ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতা প্রদান প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইন বা অটোমেশন সফটওয়্যার পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। অনলাইন অটোমেশন চালুর মাধ্যমে মাসিক পেনশন ও ভাতা বহালের ক্ষেত্রে প্রতি মাসে আলাদা করে বিল ফরম জমা দেওয়ার বিধান বাতিল করার সুপারিশ করা হয়েছে। পেনশনভোগীদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখার সার্ভারে সুরক্ষিত ডাটাবেস তৈরি করে রাখাসহ পেনশনভোগীদের পেনশন প্রাপ্তি সহজীকরণে আরো বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এতে করে একজন পেনশনভোগী বিশ্বের যেকোন প্রান্তে অবস্থান করে অনলাইনে ‘লাইভ ভেরিফিকেশন’ করে প্রচলিত নিয়মে পেনশন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া কমিটির সদস্যবৃন্দকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সেবক ও গর্বের অংশ। তাঁদের প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা যেন সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে প্রদান করা যায়- এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমি আশা করি, এর মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশন ও অন্যান্য ভাতা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে।

তিনি আরো বলেন, কমিটির সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে অতিশীঘ্রই বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।