ইসলামপুরে প্রাণিসম্পদ দপ্তর পরিদর্শনে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা

জামালপুর প্রতিনিধি: মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন, খামারিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ছানোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তিনি এ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডাঃ এ.টি.এম. হাবিবুর রহমান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শুভাশিষ কর্মকার।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ ও খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিদর্শনের অংশ হিসেবে পাথর্শী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্পে গবাদিপশুকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ফ্রি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া খামারি ও গবাদিপশু পালনকারীদের নিয়ে উঠান বৈঠকে গবাদিপশুর সুষম পুষ্টি, রোগ প্রতিরোধ, পরিচর্যা, উন্নত ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বিভিন্ন রেজিস্টার, নথিপত্র ও চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন। গবাদিপশুর পুষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সবুজ ঘাস চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন কর্মকর্তারা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সবুজায়নের সমন্বিত গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

এ সময় দপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও অবকাঠামোগত বিষয়ও পরিদর্শন করা হয়। মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার এ মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও খামারিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় প্রাণিসম্পদ সেবাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।