| ব্রুডিং: ব্রুডিং শব্দটি ব্রুড থেকে ব্রুডিং শব্দটি এসেছে। যার অর্থ দাঁড়ায়—যখন মুরগির বাচ্চা ছোট অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এই সময়ে তার ভালোভাবে তাপ ধরে রাখতে পারে না। এক হিসেবে একদিনের বাচ্চাকে তাপ দিয়ে পালন করাকে ব্রুডিং বলে।
সফল ব্রুডিংয়ের মূল ৫টি উপাদান (5 Principles of Brooding):
একটা ফার্মে ডিজিজ কখন হয়? হঠাৎ করেই কি ডিজিজ হয়? একটা জীবাণু যখন বডিতে প্রবেশ করে তখন বডির ডিফেন্স মেকানিজম বা ইমিউনিটি সিস্টেম জীবাণুকে প্রতিহত করার চেষ্টা করতে থাকে। যখন ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল হয় কেবল তখনই ডিজিজ হয়। এর আগে বাইরে থেকে কিছু ঘটে না। সেজন্য আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ইমিউনিটি সিস্টেম ভালো রাখার জন্য। আমাদের ব্রুডিং ভালো রাখতে হবে এবং ব্রুডিং পিরিয়ড ম্যানেজমেন্ট করতে হবে। ব্রুডিং ঠিক তো সব ঠিক। ব্রুডিং ঠিক করতে না পারলে Immuno organ development হবে না। Intestinal tract-এর বৃদ্ধি ছোট হবে। সর্বোপরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। একটা ফার্মে ভালো করতে হলে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন তাৎক্ষণিক বুঝতে পারা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারা জরুরি। ২৫ দিন পর্যন্ত ভালো লেগেছে, পরের দিন খারাপ হয়ে গেল—এমন অবস্থায় আপনি যদি দ্রুত সঠিক ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তাহলে ব্রুডিং পিরিয়ডকে খুব গুরুত্ব দিতে হবে। বাচ্চা আসার আগে হিট দেয়া (Pre Heating): ব্রুডিং করার আগে ঘর গরম করতে হবে। বাচ্চা আসার কমপক্ষে ৩-৪ ঘণ্টা আগে ঘর গরম করতে হবে, যাতে করে পেপার লিটার গরম হতে পারে। ভালো ব্রুডিংয়ের জন্য লিটারের তাপমাত্রা ২৮°C হওয়া দরকার। যেদিন বাচ্চা যাবে সেদিন মনে রাখতে হবে ঘর গরম করে বাচ্চা ছাড়তে হবে। যদি ঘর গরম করতে না পারে তাহলে আগে ঘর গরম করবে, তারপর বাচ্চা ছাড়বে। এই অবস্থায় বাচ্চা বক্স বা কার্টুন থেকে নামানো যাবে না। পেপার ভেজা ও পেপার ফিডিং এ করণীয়
হঠাৎ বাচ্চা জড় হয়ে যায় কেন?
ব্রুডিং বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণ প্রধানত দুটি
যখন বাচ্চা মারা যায় সেগুলোতে ডিহাইড্রেশন হয়ে মারা যায়। এ অবস্থা চলতে থাকলে E. coli ব্যাকটেরিয়া বাড়তে থাকবে এবং Endotoxin তৈরি করবে এবং এক পর্যায়ে Septicemia হবে। এই অবস্থায় দ্রুত Correction করতে হবে। Recovery-এর জন্য
ভোরবেলা বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণ: আমাদের খামারগুলোতে দেখা যাচ্ছে সকালবেলা খাবার পানি দেওয়ার একটু পরেই বাচ্চা মারা যায়। ভোরবেলা বাচ্চা মারা যাওয়ার কারণগুলো—
করণীয়
ব্রুডিং পিরিয়ডে ফিড ইনটেক খুব গুরুত্বপূর্ণ: ব্রুডিং পিরিয়ডে ফিড ইনটেক খুব গুরুত্বপূর্ণ। সেই সাথে ভেন্টিলেশন, ফ্লোর স্পেস। ব্রুডিং অবস্থায় অর্থাৎ Early age-এ Nutrition absorbing ক্ষমতা বেশি। কারণ এই বয়সে Small intestine-এর ভিলি সরু থাকে। তাই পর্যাপ্ত ফিড ইনটেক থাকলে absorption বেশি থাকে। সহজ করে বলতে গেলে বাচ্চা যদি এক গ্রাম খাবার খায় তার ওজন এক গ্রাম বাড়তে পারে (উদাহরণস্বরূপ)। অন্যদিকে বয়স যত বাড়তে থাকে Intestine বড় হতে থাকে। ফলে তুলনামূলক absorbing ক্ষমতা কমতে থাকে। তাই বাচ্চা অবস্থায় সঠিক পরিমাণ খাবার খাওয়াতে না পারলে বড় হয়ে এর Efficiency খুব খারাপভাবে পড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রথম দিকে বস্তা ফিডিং বা টায়ার ফিডিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিষ্কার ফিডের বস্তা কেটে তাতে কম পরিমাণ ফিড বারবার দিতে হবে। বাচ্চাকে তাড়িয়ে খাওয়ানোর চেয়ে বস্তা কেটে বা টায়ার ফিডারের মাধ্যমে ফিড ইনটেক বাড়াতে হবে। টায়ার ফিডার খামারীরা পরিষ্কার করে না। তাই এটি জীবাণুর সোর্স হয়ে যায়। প্রতিদিন ভালো করে ধুয়ে শুকিয়ে খাবার দিতে হবে। ব্রুডিং এ কখন খাদ্য দিবেন: ব্রয়লার বাচ্চাকে ব্রুডিং এ খাদ্য দেবার সময় নিয়ে আমরা অনেকেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকি। কেউ বলে বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ২-৩ ঘণ্টা পর খাদ্য দিতে হবে। কেউ বলে ৪ ঘণ্টা পর, কেউ বলে ৬ ঘণ্টা পর তো কেউ বলে বাচ্চা ব্রুডারে ছাড়ার ১০ ঘণ্টা পর খাদ্য দিতে হবে। সবগুলোই হয়তো সঠিক তবে সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি হলো ব্রুডারে বাচ্চা ছাড়ার পূর্বেই খাদ্যের পাত্রে খাদ্য দিয়ে দেওয়া যেন বাচ্চার ব্রুডিং শুরু হবার সাথে সাথে খাদ্য খেতে পারে। ব্রয়লার বাচ্চাকে Starvation-এ না রেখে দ্রুত খাদ্য দিয়ে ব্রুডিং করার পিছনে কিছু উপকার আছে যা বিভিন্ন গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, একটি গবেষণায় জানা গেছে, বাচ্চা না খেয়ে থাকলে তার কুসুমথলি ধীরে ধীরে শোষিত হয়। অপরদিকে যে বাচ্চা দ্রুত খাদ্য গ্রহণ করে তার কুসুমথলি দ্রুত শোষিত হয় (Moran and Reinhart, 1980)। অপর এক গবেষণায় জানা গেছে, ব্রুডিংয়ের প্রথমদিকে না খেয়ে থাকা বাচ্চার চেয়ে খাদ্য গ্রহণ করা বাচ্চার Gut activity অনেক বেশি থাকে। ফলে এই বাচ্চাগুলোর কুসুম থেকে বিভিন্ন Nutrient সহজে Intestine-এ প্রবেশ করে। ফলে কুসুমথলি দ্রুত শোষিত হয় (Noy et al., 1996), যা বাচ্চার দৈহিক ওজন বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। একই ধরনের আরেকটি গবেষণায় জানা যায় যে, ব্রুডিংয়ের প্রথম দিকে না খেয়ে থাকা বাচ্চা কুসুমথলিতে বিদ্যমান Nutrient সহজে গ্রহণ করতে পারে না। উক্ত গবেষণায় বলা হয়, Digestive system সক্রিয় হবার সাথে কুসুমথলি শোষিত হওয়া পরস্পর সম্পর্কযুক্ত (Santos Silversis, 1996)। আর Digestive system সক্রিয় হয় যখন থেকে বাচ্চা খাদ্য গ্রহণ করতে শুরু করে। এছাড়াও দেরিতে খাদ্য ও পানি দিলে বাচ্চার ওজন বৃদ্ধি, বিশেষ করে Breast muscle বৃদ্ধিতে Negative প্রভাব পড়তে পারে (Noy & Skylan, 2001), (Kidd et al., 2007)। দেরিতে খাদ্য ও পানি দিলে বাচ্চার Growth ৫% পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে (Uni and Ferket, 2004)। দেরিতে খাদ্য ও পানি দিলে বাচ্চার Digestive ও Immune system ধীর গতিতে গঠিত ও সক্রিয় হয় (Bhanja et al., 2010)। দেরিতে খাদ্য ও পানি দিলে Immune system-এর maturation ঠিকমতো হয় না। ফলে বাচ্চা pathogen দ্বারা সহজেই আক্রান্ত হয় (Dibner et al., 1999)। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম Breeder Producer প্রতিষ্ঠান “Aviagen” তাদের Breeder Management Manual-এ Chicks Placement-এর সাথে সাথে খাদ্য দেবার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। সুতরাং বাচ্চা খামারে পৌঁছার সাথে সাথে খাদ্য ও পানি একসাথে দিয়ে ব্রুডিং শুরু করতে হবে। ব্রুডিং শুরুর পর যত দেরিতে খাদ্য দিবেন আপনার বাচ্চার খাদ্যতন্ত্র তত দেরিতে Active হবে এবং Growth Performance তত খারাপ হতে শুরু করবে। বাচ্চা ছোট হলে কি বাচ্চা খারাপ?: একদিন বয়সী বাচ্চার দৈহিক ওজন যদি ১ম সপ্তাহে ৪ গুণ বা তার বেশি হয় তাহলে ব্রুডিং ভালো হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়। ব্রিডার ফার্মের কমবয়সের Parents-এর বাচ্চার Maternal Derived Antibody বেশি থাকে বলে ব্রুডিং এ ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। আমাদের খামারীর মধ্যে একটা ভ্রান্তধারণা আছে, সবাই বেশি ওজনের বাচ্চা পছন্দ করেন। কিন্তু বাচ্চার ওজন কম হলেই যে বাচ্চা খারাপ সেটা ভাবা ঠিক নয়। কারণ Breeder Farm-এ Parents-এর বয়স যত বেশি হয় Hatching ডিমের ওজন তত বাড়তে থাকে। যেমন—২৬ সপ্তাহের একটি মুরগির ডিমের ওজন সাধারণত ৫০-৫১ গ্রাম হয়, আর ৬৫ সপ্তাহের একটি মুরগির ডিমের ওজন হয় ৬৮-৭২ গ্রাম। আর Hatching ডিমের ৬৭-৬৮% হয় এক দিনের বাচ্চার ওজন। ফলে ৫০-৫১ গ্রামের ডিমের বাচ্চার ওজন হবে ৩৩-৩৪ গ্রাম আর ৬৮-৭২ গ্রামের ডিমের বাচ্চার ওজন হবে ৪৬-৪৭ গ্রাম। লেখক পরিচিতিঃ ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান ও পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞ। তিনি সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU) থেকে ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (DVM) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোল্ট্রি সায়েন্সে স্নাতকোত্তর (MS) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি এগ্রিগেট নেটওয়ার্ক লিমিটেডে এ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (CBF) ও রাজশাহী ব্রাঞ্চ ইন-চার্জ হিসেবে কর্মরত। এর আগে তিনি কাজী ফার্মস এবং নীলসাগর এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডসহ দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ে ব্রয়লার ফার্মিং ম্যানেজমেন্ট, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং মডেল এবং পোল্ট্রি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় তার উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। |







