দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘১৩তম এগ্রোটেক বাংলাদেশ-২০২৫’ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় উদ্বোধন হয়েছে। পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (আরডিএ), বগুড়া এবং লিমরা ট্রেড ফেয়ার অ্যান্ড এক্সিবিশনস লিমিটেডের যৌথ আয়োজনের এই তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ২০ নভেম্বর শুরু হয়ে চলবে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও কৃষির ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে এ বছরের আয়োজনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এবারের প্রদর্শনীতে বাংলাদেশসহ ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, কানাডা, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ইতালি, তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনসহ মোট ১৪টি দেশের চার শতাধিক কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাইস মিল, ফিড মিল, ফুড প্রসেসিং, প্যাকেজিং, পাওয়ার টিলার, ড্রায়ার, কুলার, চিলার ও অত্যাধুনিক সাইলো প্রযুক্তিসহ আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও সমাধান প্রদর্শন করছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও বাজেট) জনাব মুনিমা হাফিজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হলেও এখনো কৃষিকাজের বিভিন্ন স্তরে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পর্যাপ্ত নয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ সময়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণই গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এগ্রোটেক মেলার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও আধুনিকীকরণ আরও গতিশীল হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত HE Paulo Fernando Dias Feres এবং আইইউবিএটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আব্দুর রব। বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদি জমি হ্রাস এবং পুষ্টি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁরা IoT-ভিত্তিক স্মার্ট সেচ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ফসলোত্তর ক্ষতি হ্রাসের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরির আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং আরডিএর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ. কে. এম. অলি উল্যা বলেন, আন্তর্জাতিক এ প্রদর্শনী কৃষিপ্রযুক্তি ও যান্ত্রিকীকরণ উন্নয়নে জ্ঞান বিনিময়ের এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম সৃষ্টি করেছে। প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া গবেষক, উদ্যোক্তা, প্রস্তুতকারক এবং আমদানিকারকরা তাদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবন তুলে ধরায় দেশের কৃষি প্রযুক্তি খাত আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেলার অংশ হিসেবে “Reimagining Bangladesh’s Agriculture: A Smart Transformation through Innovation” শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ মঞ্জুরুল আলম। সেমিনারে কৃষির প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও নতুন উদ্ভাবন নিয়ে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মতবিনিময় করেন।
আয়োজকরা জানান, কৃষি প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃষকদের যান্ত্রিকীকরণের প্রতি উৎসাহ ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। দেশের কৃষিকে স্মার্ট ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রে এ আয়োজন বড় ভূমিকা রাখবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।







